স্থানীয় সরকারের পৌর প্রশাসনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য চেতণার উন্মেষ ঘটানোর প্রচেষ্টা

বিবিধ প্রসঙ্গ:


রাষ্ট্রের প্রশাসনিক একাংশের জনবল কাঠামোয়-

কেন্দ্রীয় সরকারে সি.ই.ও নাই

স্থানীয় সরকারে থাকবে কেন?

” আইনানুগ নির্বাচিত ব্যাক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান সমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক একাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে “-এভাবেই সংবিধানের চতুর্থ ভাগের তৃতীয় পরিচ্ছেদে ৫৯(১) ধারায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বাধ্যবাধকতার ঘোষনা রয়েছে।

[59.(1)–Local Government in every administrative unit of The Republic shall be entrusted to bodies, composed of persons elected in accordance with law. ]

কিন্তু অদ্যাবধি তা পুরোপুরি কার্যকারিতা পায়নি। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌর প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়মিত হলেও নির্বাচন হয়েছে। পরিশেষে উপজেলা পরিষদেও নির্বাচন হলো। জেলা পরিষদ আজও নির্বাচনের মুখ দেখেনি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এ বিচ্যুতির হেতু কি এবং তা কি জবাবদিহিতার উর্দ্ধে – এ নিয়ে জনমনে বিস্তর প্রশ্ন।

কারন অতি পরিষ্কার। এর পেছনে রয়েছে পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক শাসন এবং গনতন্ত্রের খোলসে সামরিক ও আমলাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের কায়েমী স্বার্থবাদ। এলিট সেন্স তাড়িত এ গোষ্ঠিগুলো রাষ্ট্রের কোন ক্ষমতা সাধারন মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা নির্বাহিত হোক, তা সহ্য করতে পারে না। সে কারনেই গনতান্ত্রিক সুষ্ঠু বিকাশের পথে এত ষড়যন্ত্র। আরো দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো, রাজনৈতিক নেতর্ৃবৃন্দ সে কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর এলিট ধারনার সাথে নিজেদের মাথা গুলিয়ে ফেলেন।

আশির দশকে স্থানীয় সরকারের পৌর প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রথমে সি.ই.ও বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রেষনে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। পৌর প্রশাসনের স্বয়ংসম্পুর্ন নিজস্ব জনবল কাঠামো বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের ক্যাডার সদস্য হতে সি.ই.ও নিয়োগ দ্বারা মূলত স্থানীয় প্রশাসনের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যকে বিকৃত করা হয়। অপমানিত হয় জনপ্রতিনিধিত্ব। ঔপনিবেশিক আমলের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আদলে এ ব্যবস্থা জারী থাকায় স্বাধীনভাবে এ প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করতে পারেনি। অপরদিকে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় গড়ে উঠার পথে বার বার ধাক্কা খেয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি অধিনস্থ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তা পরিচালনা করা হয়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রকৃয়ায় তা পরিচালিত হতে দেয়া হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে সি.ই.ও লাভজনক নয় বিবেচনায় এখানে পদায়ন করা না হলেও নব্বইয়ের দশকের শেষে জেলা পরিষদে সি.ই.ও’র অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়। স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক একাংশগুলোতে এরুপ সি.ই.ও কালচার যেখানে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে সেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক একাংশ মন্ত্রনালয় ও বিভাগগুলোতে সি.ই.ও নিয়োগ করা যাবে না কেন- এরূপ প্রশ্ন উঠতেই পারে।

কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত, নীতি ও বিধি-বিধান সমূহ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেগুলো তদারক ও সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রনালয় ও বিভাগগুলোতে বিদ্যমান চাকুরী কাঠামোয় বাইরের কোন বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিকে সি.ই.ও হিসেবে নিয়োগ করা অধিকতর জরুরী বিবেচিত হতে পারে । কারন বিগত সময়গুলোতে প্রশাসনের সামগ্রিক কর্মকান্ড জনমানসে ইতিবাচক ধারনার জন্ম দিতে পারেনি।

প্রকৃতপক্ষে সংবিধানের ৫৫(৬) ধারা মোতাবেক সরকারের কার্য বন্টন ও পরিচালনার জন্য প্রেসিডেন্ট কর্তৃক বিধি সমূহ প্রনয়ন করা হয়। এ কার্যবিধিমালা, ১৯৯৬ এর ২(এফ),২ (জে) ও ২(ভি) নং বিধিদৃষ্টে সরকার ঘোষিত প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশের জনবল কাঠামোয় কর্মকর্তা ধাপের প্রশাসনিক প্রধান হবেন সচিব। আর সাংবিধানিক উপায়ে নির্বাচিত নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি হবেন উক্ত কাঠামোয় প্রধান নির্বাহী। সুতরাং সংবিধান ও সরকারের কার্য বন্টন ও পরিচালনার বিদ্যমান বিধি-বিধান মোতাবেক রাষ্ট্র কাঠামোর কোন প্রশাসনিক একাংশের জনবল কাঠামোয়, তা কেন্দ্রীয় সরকারের হোক বা স্থানীয় সরকারেরই হোক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সি.ই.ও-র কোন পদ থাকতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীগন এবং স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান বা মেয়রগনই স্ব-স্ব প্রশাসনিক একাংশের জনবল কাঠামোয় প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেন। কোম্পানী বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী চেযারম্যানগনই হলেন ঐসব প্রতিষ্ঠানের সি.ই.ও। অভিধান ও এনসাইক্লোপিডিয়ায় সি.ই.ও এভাবে সংজ্ঞায়িত আছে-

** Chief Executive Officer- The highest – ranking executive in a company or organization responsible for carrying out the policies of the board of directors on a day-to-day basis.
** CEO (Chief Executive Officer). The highest individual in command of an organization. Typically the president of the company, the CEO reports to the Chairman of the Board.
** Chief Executive Officer- A Chief Executive Officer (CEO) or Chief Executive is one of the highest ranking corporate officer (Executive) or administrator in charge of total management, if selected as President and CEO of a corporation, company, organization or agency, reporting to the board of directors.

সময়ের বিবর্তনে সুস্থ্য গনতান্ত্রিক ধারা বিকাশের জন্য রাষ্ট্র কাঠামোয় প্রশাসনিক একাংশগুলোতে সি.ই.ও নিয়োগের যৌক্তিকতা সার্বিক নিরীখে নতুন করে ভেবে দেখা দরকার বলে অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন।

________________________________

Advertisements

Comments on: "বিবিধ প্রসঙ্গ:" (2)

  1. স্হানীয় সরকার প্রশাসনিক একাংশ পৌরসভার চাকুরীতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসনিক একাংশ সরকারের কেন্দ্রীয় প্রশাসন ক্যাডার সদস্যদের প্রেষণে নিয়োগ করা কোন যুক্তি বা নিয়মেই সিদ্ধ হতে পারে না। পৌরসভার চাকরীতে তাদের কোন প্রকার স্বত্ব জোর করে চাপিয়ে দেয়া হলে তা মঙ্গল বয়ে না এনে মারাত্মক জটিলতাই সৃষ্টি করবে। কারম জোর জুলুমের প্রতিবাদ করার সময় এখন চলে এসেছে। অন্যকে ফাঁকি দিয়ে বর্তমান সময়ে বেশীদূর এগিয়ে যাওয়া কঠিন। মানুষ অনেক সতর্ক হয়েছে। সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখতে হবে।

    • ঠিক বলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাগণ যদি স্হানীয় সরকারের চাকুরীতে এভাবে প্রবেশ করতে পারেন তাহলে এসব স্হানীয় সরকারের কর্মকর্তাগণ কেন কেন্দ্রীয় সরকারের চাকুরীতে প্রবেশ করতে পারবেননা? ঠিক তেমনি স্হানীয় সরকারে প্রশাসনিক একাংশের চাকুরী কাঠামোয় যদি সিইও থাকতে পারে তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক একাংশের কোন চাকুরী কাঠামোয় সিইও পদটি সৃষ্টি করা হবেনা কেন? ওখানে কোন উচ্চ শিক্ষিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দায়িত্ব পালণ করতে পারেন। যেমনভাবে এ্যাম্বাসেডর বা উপদেষ্টার পদে তাঁদের বসানো হয়ে থাকে। বিষয়টি সত্বর পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়া উচিৎ হবে বলে আমরা অনেকেই মনে করি। তখন দেখা যাবে আমলারা কিভাবে নিজেরদর তৈরী করা জালে নিজেরাই আঁটকে পড়েন। অতি লোভে তাঁতি নষ্ট তো হতেই হবে। শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। চলুন আমরা অপেক্ষায় থাকি। আজকাল জুলুমের বিরূদ্ধে জনমত তৈরী করা কোন কঠিন কাজ নয়। মিডিয়া আদালত সবইতো আছে। আশা করি শিক্ষিত সচেতণ ভূক্তভোগীরা সাহস করে এগিয়ে আসতে আর সেই সামন্ত যুগের মতো পিছপা হবেননা। সত্যের জয় হবেই হবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: