স্থানীয় সরকারের পৌর প্রশাসনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য চেতণার উন্মেষ ঘটানোর প্রচেষ্টা

এপ্রিল’ ২০১৩, সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসের ভয়াভহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটণা রাষ্ট্র পরিচালনায় ৩টি মারাত্মক অবক্ষয়ের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছেঃ- (১) রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ণ, (২) কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তাগণের দলীয় লেজুরবৃত্তি ও (৩) স্হানীয় সরকারের দূর্বল কর্মকাঠামো। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এ ৩টি কারণেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি দূর্বল হতে হতে আজ রাজনৈতিক শক্তির গোলাম হয়ে গেছে। ফলে বিপর্যের পর বিপর্যয় ঘটে রাষ্ট্র অকার্যকর হয়ে পড়বে-এটাই স্বাভাবিক।

যারা ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’ বা ‘ডিসকভারি’ টিভি চ্যানেল দেখেন, তারা অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন যে, শক্তিমান সিংহ বা বাঘ অভয়ারণ্যে একক বা দলগতভাবে নিজেদের অঞ্চল ভাগ করে নিয়ে দূর্বল প্রাণীদের শিকার করে নিজেরা বাঁচে এবং মোটা তাজা হয়। আমাদের দেশের দলীয় রাজনৈতিক চরিত্র আজ হুবহু সে রকমই। পশু চরিত্রের নির্লজ্জ দূর্বৃত্তায়ণ। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক একাংশগুলোতে শক্তিমান রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার পালাবদলের পথ ধরে সাধারণ জনগণকে একক বা দলবদ্ধভাবে পাশবিক শোষণ, জুলুম ও নিপীড়ণের শিকারে পরিণত করছে। সাভারের সোহেল রানা দেশের সব দলে সর্বত্র বিরাজমান। যারা ভূক্তভোগী তারা তো হাড়ে হাড়েই টের পেয়েছেন। যারা নিজেরা ভূক্তভোগী নন কিন্তু সচেতন, তারাও রাজনৈতিক দূর্বৃত্তায়ণের মহামারি সম্পর্কে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে পারেন না। এ অবস্হা থেকে পরিত্রাণের একটিই উপায়- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি রাজনৈতিক শক্তির উপর অধিকতর বৃদ্ধি করা। দরকার একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ আমলাতন্ত্র- যারা আইনের শাসন নিশ্চিত করবে এবং অকল্যাণকর সবকিছু থেকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে রক্ষা করতে সামর্থ্যবান হবে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালণ করতে পারবে।

এ বিষয়ে সবাই একমত যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের লেবেলবাজি বা দলীয় লেজুরবৃত্তির কারণে আমলাতন্ত্র দূর্বল হয়ে পড়েছে। অযোগ্যরা যোগ্যদের আসন দখল করে বিপর্যয় ডেকে এনেছে। সাভার ট্র্যাজেডির ঘটণার সূত্রপাতে দায়ীদের একজন হিসেবে দায় এড়াতে পারছেন না সাভারের ইউএনও। মিডিয়ায় প্রচারিত তার বক্তব্যের পেছনের কারণই হলো দলীয় লেজুরবৃত্তি। একারণেই তিনি একদম বিবেকহীন হয়ে সীমাহীন লোভী ও দলীয় দূর্বৃত্ত দুষ্টু লোকগুলোর পক্ষ নিয়ে শত শত নিরীহ শ্রমিকের মৃত্যু ঝুঁকিকে উপেক্ষা করতে পারলেন। তাঁকে ওএসডি করলেই কি দায়মুক্তি হয়ে যাবে? জনপ্রশাসনের নৈতিক অবস্হান নিয়ে জনমনে ব্যাপকভাবে প্রশ্ন সৃষ্টির আগেভাগেই শোধরানোর ব্যবস্হা গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে।

সাভার ট্র্যাজেডির ঘটণার কার্যকারণ খতিয়ে দেখে সরকার এযাবৎ যে বিষয়গুলো সামনে তুলে ধরেছে, তার মাঝে অন্যতম হলো ভবনের নক্সা অনুমোদনের বিষয়টি। ‘রানা প্লাজা’ নামক ভবনটির নক্সা অনুমোদন দিয়েছে সাভার পৌরসভা। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নক্সা অনুমোদনের ক্ষেত্রে- (১) যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, (২) প্রচলিত নিয়মনীতি উপেক্ষা করা হয়েছে, (৩) দায়িত্ব পালণে অবহেলা করা হয়েছে ও (৪) ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজ করা হয়েছে। ২০০৫ সালে ছয় তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রথম অনুমোদন নেন সোহেল রানা। পরবর্তীতে দশ তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়। নক্সা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভবনে ফাটল ধরার পর যথাযথ ব্যবস্হা নিতে পৌরসভার ব্যর্থতার অভিযোগে মেয়রকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত ৭টি অভিযোগের কারণ দর্শাতে ৭দিনের সময় দেয়া হয়েছে। যথাযথ কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্হা নেয়া হতে পারে।

অপরদিকে উক্ত মর্মান্তিক বিপর্যয়ের ঘটণায় সাভার পৌরসভার বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। দু’দফায় ত্রুটীপূর্ণ নক্সা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জড়িত আরো কয়েকজন প্রকৌশলী আইনের আওতায় আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, উক্ত ভবন নির্মাণস্হলের জমির মালিকানা বা রেজিষ্ট্রি দলিলও জাল ছিলো। এতো সব পরীক্ষা নিরীক্ষার উপযুক্ত ও সুনির্দিষ্ট জনবল পৌরসভার বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামোয় নেই। এছাড়া পৌরসভা কার্যালয়ে নথি উপস্হাপনের পদ্ধতি ত্রুটীপূর্ণ হয়ে পড়ায় জনপ্রতিনিধি মেয়রের অনুমোদন গ্রহনের পূর্বে বিবেচ্য বিষয়ের প্রক্রিয়া যাঁচাই ও আইনগত মতামত গ্রহণের বাধ্যবাধকতা অনেকক্ষেত্রেই নেই। তবে সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগ পৌরসভার জনবল কাঠামো শক্তিশালী, টেকসই ও আধুনিকায়নের জন্য ব্যবস্হা গ্রহণ প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে জানা যায়।

পৌরসভা হতে নক্সা অনুমোদনের জন্য নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্রের সাথে জমা দিতে হয়ঃ

ক) লে-আউট প্ল্যান
খ) স্ট্রাকচারাল প্ল্যান
গ) জমির মূল দলিল
ঘ) আর এস পর্চ্চা
ঙ) নাম খারিজ পর্চ্চা
চ) ডিসিআর
ছ) হালনাগাদ খাজনা পরিশোধের রশিদ
জ) জমির স্বত্ব ও ভোগদখল সংক্রান্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদপত্র
ঝ) সয়েল টেস্ট রিপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
ঞ) পরিবেশ ছাড়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ইত্যাদি।

পৌরসভার মাষ্টার প্ল্যানের বিধান অক্ষুন্ন রেখে উপরোল্লিখিত উপাদানগুলো পরিপূর্ণভাবে যাঁচাই ও যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে নক্সা অনুমোদন করতে হলে ‘পৌরসভা নক্সা অনুমোদন কমিটি’-তে নিম্নোক্ত কর্মকর্তাদের অন্তর্ভূক্তি অত্যাবশ্যকীয়ঃ

ক) নগর পরিকল্পনাবিদ
খ) স্হপতি
গ) প্রকৌশলী (পুর ও বিদ্যুৎ)
ঘ) প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও
ঙ) রাজস্ব কর্মকর্তা।

নক্সা অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সবকিছু ঠিকঠাক ও বিধিসম্মতভাবে হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে নথিতে সচিব বা, ক্ষেত্রমত, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশ বা মতামতের ভিত্তিতেই কেবল আইনসম্মতভাবে মেয়র তা অনুমোদন করতে পারেন। সাভার পৌরসভা সহ দেশের কোন পৌরসভায়ই এক্ষেত্রে আইনের বিধান পরিপালিত হচ্ছে না। প্রকৌশলী ও মেয়রই এসব কাজ সেরে ফেলেন। একাজে রাজস্ব ঠিকমতো ধার্য বা আদায় হচ্ছে কি-না, তা যাঁচাইয়েরও সুযোগ থাকে না। মেয়রের নিকট নথি উপস্হাপনের পূর্বাপর নিয়ম ও স্হানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর সাথে সাংঘর্ষিক পৌরসভা কার্যবিধিমালা, ২০১২ এর ৮-নং বিধির নিম্নোক্ত বিশেষ শর্ত জুড়ে দেয়ায় পৌরসভায় অনিয়ম বৃদ্ধি পাচ্ছেঃ

“তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মরত নাই সে সকল পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান উক্তরূপ পত্র ও নথি মেয়রের নিকট সরাসরি উপস্হাপন করতে পারবেন।”

দেশের শতকরা আটভাগের বেশী পৌরসভায় কখনো ভিন্ন সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ প্রেষণে ‘প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা’ পদে নিয়োজিত থাকেননি। পূর্বে পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকলে সচিবের মাধ্যমে মেয়রের নিকট পত্র ও নথি উপস্হাপনের নির্বাহী আদেশ বলবৎ ছিল (স্হানীয় সরকার বিভাগের ১৬/১০/১৯৯০ খ্রিঃ তারিখের শা-১০/৭এম-২/৮৯/৭৫৫ নং স্মারকের আদেশ)।

স্হানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৭৩ মতে পৌরসভা সার্ভিসে ‘সচিব’ পদটি আবশ্যিক ও সর্বস্তনিক। এছাড়া আইনের বিভিন্ন ধারায় বর্ণিত কার্যক্ষেত্রে এ পদের অবস্হান এরূপে স্পষ্টীকৃত যে- “সচিব বা ক্ষেত্রমত, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা”।

সুতরাং কোন পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকলে সচিবের মাধ্যমে সকল বিবেচ্য পত্র ও নথি উপস্হাপিত হবে- বিষয়টি পূর্ব নজীর ও আইনদ্বারা সিদ্ধ, যা বিধি দ্বারা ভিন্নরূপে হতে পারে না। অথচ পৌরসভা কার্যবিধিমালা, ২০১২ এর ৮-নং বিধিতে তা সাংঘর্ষিকভাবে করা হয়েছে। এতে করে স্বচ্ছতা ও আইনগত মতামতের ভিত্তি অপসারিত হয়েছে। আইনের শাসন বা সুশাসনের পথে ইহা মারাত্মক অন্তরায়। ফলে সাভার ট্র্যাজেডির মতো আড়ালে আবডালে অনেক ট্র্যাজেডির জন্ম নিচ্ছে -সেগুলো একদা হয়তো বিভিষণরূপে আত্মপ্রকাশ হবে। তথাপিও আমরা আশাবাদী যে, নতুন আইনের অধীনে জনবল কাঠামোর পূণঃ বিণ্যাস ও চাকুরী বিধিমালা প্রনয়ণের মাধ্যমে পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী হবার পথে এগিয়ে নেয়া হবে। স্হানীয় সরকার বিভাগে এ কাজটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে আমরা জানি। সাভার ট্র্যাজিডির সূত্র ধরে বা সুযোগ নিয়ে যে যাই বলুক না কেন, প্রস্তাবিত পৌরসভার জনবল কাঠামো দ্রুত প্রণয়ন করা হলে দেশের পৌরসভাগুলো নগর পরিকল্পনাবিদ, স্হপতি ও ইমারত পরিদর্শক পেয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। তখন হয়তো সাভার ট্র্যাজেডির মতো ঘটণা আর ঘটবে না।

-শান্ত পথিক

০৩ মে, ২০১৩ খ্রিঃ

প্রসঙ্গঃ সুশাসন ও স্হানীয় শাসন

নগর প্রশাসনে সংস্কার জরুরী

 

দেশের টেকসই সুষম উন্নয়ণ ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের কাজটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চল্লিশ বছর পার করেও স্বাধীনতার সুফলগুলো জনগণ যেসব কারণে কাঙ্খিতরূপে লাভ করতে পরেনি তার অন্যতম হলো বৃটিশ পাকিস্তানীদের রেখে যাওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্হা আঁকরে ধরে রাখা। দেশের প্রকৃত উন্নয়ণ ও জনসেবার জন্য স্বাধীন দেশে যেরূপ প্রশাসনযন্ত্র গড়ে তোলা দরকার ছিল তাতে মনোযোগী না হয়ে ঔপনিবেশিক শোষনের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত প্রশাসনিক পদ্ধতি ও বিধি বিধানগুলো আজো গোষ্ঠীস্বার্থে বহাল রেখে যথেচ্ছা ব্যবহারের প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সার্বভৌম সংবিধানও অনুসৃত হয় না। এ কারণেই সরকারযন্ত্রের কাছে জিম্মি ও বঞ্চিত জনগণের ক্ষোভ বিক্ষোভের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। সরকারে আসা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ভূমিকাও এক্ষেত্রে জনস্বার্থের অনুকূলে তেমন ইতিবাচক বা ফলপ্রসূ হতে কখনো দেখা যায়নি। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় না যেয়ে দেশের নীতি নির্ধারকদের কাছে আশা করবো, তাঁরা একটি আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের মানসে কালবিলম্ব না করে সংবিধান অনুসারে জনপ্রতিনিধিত্ব সম্পন্ন ও প্রকৃত জনবান্ধব সরকার ব্যবস্হা গঠন করবেন এবং স্বাধীন দেশের স্বাধীন জনগণের উপযোগী করে প্রশাসনিক সংস্কার সাধনে নিরপেক্ষতার সাথে মনযোগী হবেন।

বর্তমান প্রজন্ম আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে এখন জ্ঞান বিজ্ঞানে অনেক বেশী সমৃদ্ধ ও অধিকার সচেতন। গোটা বিশ্বের সাথে তারা নীবিড় সম্পর্কজালে সংযুক্ত হয়ে নিজেদের গ্লোবাল ভিলেজের অধিবাসী করে নিয়েছে। সুতরাং সারা বিশ্বের প্রেক্ষিতে উন্নয়ণ ও সেবা প্রাপ্তির আপেক্ষিক বা তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ ও তথ্য উপাত্ত তাদের নখদর্পণে। বিশ্ব প্রেক্ষিত বিবেচনায় তাদের সকল প্রত্যাশাও প্রমিত মানের। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় তারা জানে, টেকসই উন্নয়ণের জন্য সুশাসন অপরিহার্য এবং সুশাসন বলতে স্হানীয় সুশাসনকেই বুঝায়। স্হানীয় শাসনের অধিক্ষেত্রেই তারা বসবাস করে এবং প্রয়োজনীয় সেবা প্রত্যাশা করে। কেউ গ্রামে, কেউ নগরে, কেউ মহানগরে। এসব অধিক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনযন্ত্রের কাছেই তারা যায় ও চায় প্রয়োজনীয় সকল নাগরিক সুবিধা। তাই কেন্দ্র হতে স্হানীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং সারা দেশে সুষম ও শক্তিশালী স্হানীয় সরকার ব্যবস্হা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। শক্তিশালী ও সুষম গনতান্ত্রিক স্হানীয় সরকার ব্যবস্হার মাধ্যমেই সরকারের জনবান্ধব নীতিকৌশল ও পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং নাগরিক সুবিধাদি যথাথভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। সংবিধানের মৌলিক নীতি ও অভিপ্রায় অনুযায়ী এসকল স্তরে নর্বাচিত জনপ্রতিনিধিগনের কার্যকর নেতৃত্ব, স্হানীয় সরকারের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মকর্তা কর্মচারীদের কার্য এবং সকল শ্রেণী পেশার জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে স্হানীয় সুশাসন। এ সকল প্রেক্ষাপটে এ মূহুর্তে সরকারের বিদ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্হার সংস্কার এবং জনগুরুত্ব বিবেচনায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা ও কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণ জরুরীঃ

* সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অঞ্চল, মহানগর ও নগর বিণ্যাস

দেশে বর্তমানে ৬৪টি জেলায় ৯টি সিটি কর্পোরেশন ও প্রায় ৩০৮টি পৌরসভা রয়েছে। এগুলো দেশের নগর স্হানীয় সরকার (Urban Local Government) কাঠামোভূক্ত প্রতিষ্ঠান। গ্রামীন স্হানীয় সরকার (Rural Local Government) কাঠামোয়  ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ-এরূপ স্তরবিণ্যাস করা হলেও নগর স্হানীয় সরকারে তা করা হয়নি। দেশে দ্রুত নগরায়ণের ফলে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নগর স্হানীয় সরকার (ULG) প্রতিষ্ঠান সমূহের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ স্তরবিণ্যাসের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নগর স্হানীয় সরকারের ক্ষেত্রে উপজেলা শহর, জেলা শহর ও মহানগর বা মেট্রোপলিটন সিটি-এরূপ স্তরবিণ্যাস করা যেতে পারে। নগর প্রশাসনে ক্ষমতার সুষম বিকেন্দ্রীকরণ, সম্পর্কজাল (Network) বিস্তরন ও সর্বদিক বিবেচনায় নিম্নোক্তভাবে গোটা দেশকে ১৩টি অঞ্চলে বিভক্ত করা যেতে পারে। ভৌগলিক অবস্হান, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, গ্রহণযোগ্যতা ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের নিরীখে প্রতি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করে উহাকে আঞ্চলিক স্হানীয় নগর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন স্তর হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

ক্রম

জেলা

বিদ্যমান পৌরসভা

ক্রম

জেলা

বিদ্যমান পৌরসভা

১।

গোপালগঞ্জ

০৪

১।

খুলনা

০২

২।

মাদারীপুর

০৩

২।

সাতক্ষীরা

০২

৩।

শরিয়তপুর

০৫

৩।

যশোর

০৮

৪।

ফরিদপুর

০৪

৪।

নড়াইল

০২

৫।

রাজবাড়ী

০৩

৫।

বাগেরহাট

০২

        মোটঃ

১৯

        মোটঃ

১৬

১।

বগুড়া

১১

১।

গাজীপুর

০৩

২।

গাইবান্ধা

০৩

২।

টাংগাইল

১০

৩।

জয়পুরহাট

০৫

৩।

নরসিংদী

০৬

৪।

সিরাজগঞ্জ

০৬

৪।

ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়া

০৪

        মোটঃ

২৫

মোটঃ

২৩

১।

ময়মনসিংহ

১০

১।

কুমিল্লা

১০

২।

কিশোরগঞ্জ

০৮

২।

চাঁদপুর

০৭

৩।

নেত্রকোনা

০৫

৩।

লক্ষ্মীপুর

০৪

৪।

জামালপুর

০৬

৪।

নোয়াখালী

০৮

৫।

শেরপুর

০৪

৫।

ফেণী

০৫

মোটঃ

৩৩

মোটঃ

৩৪

১।

রাজশাহী

১৫

১।

কুষ্টিয়া

০৫

২।

নাটোর

০৮

২।

মাগুরা

০১

৩।

নবাবগঞ্জ

০৪

৩।

ঝিনাইদহ

০৬

৪।

নওগাঁ

০৩

৪।

চূয়াডাংগা

০৪

৫।

পাবনা

০৯

৫।

মেহেরপুর

০২

  মোটঃ

৩৯

          মোটঃ

১৮

১।

নারায়ণগঞ্জ

০৩

১।

সিলেট

০৪

২।

মুন্সীগঞ্জ

০২

২।

মৌলভীবাজার

০৫

৩।

ঢাকা

০৩

৩।

সুনামগঞ্জ

০৪

৪।

মানিকগঞ্জ

০২

৪।

হবিগঞ্জ

০৬

মোটঃ

১০

মোটঃ

১৯

১।

বরিশাল

০৫

১।

চট্টগ্রাম

১১

২।

ঝালকাঠি

০২

২।

কক্সবাজার

০৪

৩।

পটুয়াখালী

০৫

৩।

খাগড়াছড়ি

০৩

৪।

পিরোজপুর

০৩

৪।

বান্দরবান

০২

৫।

বরগুনা

০৪

৫।

রাংগামাটি

০২

৬।

ভোলা

০৫

মোটঃ

২২

মোটঃ

২৪

 

 

১।

রংপুর

০২

 

২।

দিনাজপুর

০৮

 

৩।

ঠাকুরগাঁও

০৩

 

৪।

পঞ্চগড়

০২

 

৫।

নীলফামারী

০৪

 

৬।

লালমনিরহাট

০২

 

৭।

কুড়িগ্রাম

০৩

 

মোটঃ

২৪

 

 

উপরে প্রদর্শিত ১৩টি অঞ্চলের মাঝে ৮টি অঞ্চলেই মহানগর বা সিটি কর্পোরেশন বিদ্যমান রয়েছে। সম্প্রতি আলোচিত প্রতিটি পুরাতন জেলা শহরকে মহানগরে রূপান্তর না করে প্রস্তাবিত গোপালগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ-এ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরকে মহানগরে উন্নীত করাই অধিকতর সহজসাধ্য ও যৌক্তিক হবে। তাতে সময় ও রাজস্ব ব্যয়ের সাশ্রয় হবে। প্রতিটি অঞ্চলের মহানগরগুলো ঐ অঞ্চলের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নগর প্রতিষ্ঠানগুলোর আঞ্চলিক অভিবাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। এগুলোর কর্মী প্রশিক্ষন, নগর পরিকল্পনা, কারিগরী ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ্য বাড়াতে সাহায্য করবে। এছাড়া প্রতি অঞ্চলে অবস্হিত মহানগর প্রধানের নেতৃত্বে ঐ অঞ্চলের সকল নগরের জনপ্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক নগর স্হানীয় সরকার পরিষদ (Regional Council Of Urban Local Government-RCULG) গঠিত হতে পারে। সিটি কর্পোরেশন ভবনেই এর কার্যালয় থাকতে পারে এবং কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পরিষদের সাচিবিক দায়িত্ব পালণ করতে পারবেন। দেশের ১৩টি আঞ্চলিক CULG প্রধান, রাজধানী শহর (Mega City) ঢাকার মেয়র ও এর আঞ্চলিক প্রধানগণ (যদি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকেন) এবং স্হানীয় সরকার মন্ত্রীর সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হতে পারে একটি জাতীয় নগর স্হানীয় সরকার পরিষদ (National Council Of Urban Local Government – NCULG)। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের মন্ত্রীগণ (যেমনঃ অর্থ, পরিকল্পনা, গণপূর্ত, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, সমাজ কল্যান, সংস্কৃতি ইতাদি) এ পরিষদের সদস্য হবেন। এর একটি আলাদা কার্যালয় ও লোকবল কাঠামো থাকতে হবে। কেবিনেট সচবের পদমর্যাদার একজন সচিব NCULG’র সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। আঞ্চলিক ও জাতীয় CULG ‘র কার্যাবলী সরকার নির্ধারণ করে দেবে।

অপরদিকে প্রদর্শিত ১৩টি অঞ্চলের মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদ্যমান ৭টি প্রশাসনিক বিভাগের (Division) অতিরিক্ত নতুন ৬টি বিভাগ গঠন করে বিভাগ সমূহকে পূণর্বিণ্যাসের মাধ্যমে সরকারের মাঠ প্রশাসনেও সুষম ও অধিকতর ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ সম্ভব হবে। এছাড়া অনুরূপভাবে গঠিত হতে পারে ১৩টি আঞ্চলিক গ্রামীণ স্হানীয় সরকার পরিষদ (Regional Council Of Rural Local Government-RCRLG) ও একটি জাতীয় গ্রামীণ স্হানীয় সরকার পরিষদ (National Council Of Rural Local Government – NCRLG)। আঞ্চলিক CRLG গুলো প্রতি অঞ্চলের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে। এর সদস্যগণের মাঝ থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে অথবা সরকার কর্তৃক দায়িত্ব প্রদত্ত একজন সংসদ সদস্যের (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) নেতৃত্বে উহার কার্য পরিচালিত হতে পারে। বর্তমান বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আঞ্চলিক CRLG’র কার্যালয়ে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। বিভাগীয় কমিশনার পরিষদের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। জাতীয় গ্রামীণ স্হানীয় সরকার পরিষদও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত হতে পারে।

** স্হানীয় সরকারের চাকুরী (Service) সমূহ পূণর্গঠন

গ্রামীণ স্হানীয় সরকার (RLG) প্রতিষ্ঠান ও নগর স্হানীয় সরকার (ULG) প্রতিষ্ঠান সমূহের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আলাদা দুটি পূর্ণাংগ চাকুরী কাঠামো পূনর্গঠণ ও উপযুক্ত পদ্ধতিতে নিয়োগের ব্যবস্হা করতে হবে। এসব সার্ভিসের নিয়মিত পদে প্রেষণে লোকবল নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। এজন্যে এ সার্ভিস দুটোর জন্য আলাদা নতুন ক্যাডার চালু করা যেতে পারে। স্হানীয় সরকারের নিজস্ব এসব ক্যাডারের প্রশাসনিক ও পেশাদারী পদসমূহে কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে বাস্তবিক সুফল পাওয়া যাবে। স্বল্প সময়ের জন্য ভিন্ন ক্যাডারের প্রেষণে নিযুক্ত কর্মকর্তা দ্বারা এসব প্রতিষ্ঠানের কাঙ্খিত ও টেকসই সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। কাজের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য বিচারে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ কেন্দ্রে থেকে সরকারের নীতিমালা, বিধি বিধান প্রনয়ণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক (সরকারী আদেশ নির্দেশ জারীকরণ, পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ইত্যাদি) কার্য সম্পাদন করবেন। আর স্হানীয় সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ সরকারের নীতি-নির্দেশনা অনুসরণে স্হানীয় পর্যায়ে জনগণের কাছে থেকে উন্নয়ণ ও সেবামূলক কার্যাদি নিষ্পন্ন করবেন। তাঁরা স্বীয় খাতের সকল স্তরের প্রতিষ্ঠানসমূহে পদোন্নতি ও বদলীযোগ্য হবেন। স্ব-স্ব পেশায় ব্যাপক প্রশিক্ষনের সুযোগ থাকবে। কেন্দ্রীয় কোষাগার থেকে তারা বেতনভাতা আহরণ করবেন এবং অবসরে (Retirement) যাবার পর পেনশন ভোগ করবেন। হাওলাতি জনবল নয়, স্বীয় পেশায় অভিজ্ঞ স্হানীয় সরকারের নিজস্ব কাঠামোয় প্রতিষ্ঠিত দক্ষ জনবল দ্বারাই সর্বোত্তম জনসেবা প্রদান সম্ভব হবে। প্রয়োজনে স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ উহাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের বেতনভাতা সংক্রান্ত সকল তহবিল ও চাঁদা কেন্দ্রীয় কোষাগারে প্রদান করতে পারবে। ভুলে গেলে চলবে না, জনগণের দ্বারাই সরকার, জনগণের জন্যই সরকার আর স্হানীয় সরকারই জনগণের কাছের সরকার এবং আসল সরকার।

উপরের মূলনীতিসমূহের উপর ভিত্তি করে এ দুখাতে বিদ্যমান চাকুরী কাঠামোর পূনর্বিণ্যাস ও সার্ভিসসমূহ পূনর্গঠন করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আলাদা জনবল কাঠামো ও নিয়োগ বিধিমালা প্রনয়ণ করে বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস (BSR) অনুসারে তাঁদের চাকুরী নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

*** স্হানীয় সরকারের আইনসমূহের অধিনে অবিলম্বে বিধিমালাসমূহ প্রনয়ণ

বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর জাতীয় সংসদে যুগোপযোগী করে স্হানীয় সরকারের আইনসমূহ (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন) পাশ করে প্রবর্তন করা হয়েছে। এরপর প্রায় দুবছর গত হলেও এ সময়ের মাঝে সরকার ঐসব আইনের অধীন অতি প্রয়োজনীয় বিধিমালাসমূহ প্রনয়ণে ব্যর্থ হয়েছে। তাতে নতুন আইনগুলোর সুফল থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছেন। ঐসব আইনে স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের গণতন্ত্রায়ন, জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার, সেবাকার্যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক কর্মকান্ডের প্রসার ইত্যাদি অগ্রসর কার্যাবলীর বিধান রাখা হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় ফোরামে স্হানীয় সরকার প্রতিনিধিবৃন্দ, বিশেষজ্ঞগণ, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যগণ এসব বিধিমালা প্রনয়ণের জন্য বহুবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও অদৃশ্য কারণে আজো বিধি সমূহ প্রনয়ণ করা হয়নি। এ নিয়ে জনস্বার্থের বদলে গোষ্ঠীস্বার্থের অনেক নাটক জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। যা একদিন জনরোষের কারণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্হানীয় সরকার আইনের অধীন বিধি সমূহ অবিলম্বে প্রনয়ণের কার্যকর ব্যবস্হা গ্রহণ জনস্বার্থে অতীব জরুরী।

****স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে দ্রুত e-Local Governance চালু করণ

জনগণের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে দ্রুত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন সেবা প্রদানের ব্যবস্হা করা না হলে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এসকল প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা হারাতে হবে। জনগণের দোরগোরায় সহজে সেবা পৌঁছে দেয়া, স্বচ্ছতা, দূর্ণীতি কমিয়ে আনা, নিখুঁতভাবে কাজ সম্পাদন, ব্যয় ও সময় বাঁচানো, সুষ্ঠ অফিস ব্যবস্হাপনা, রাজস্ব ও অর্থ ব্যবস্হাপনা ইত্যাদি কার্যাবলী আধুনিক সফ্টওয়্যার, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে অনায়াসে নিশ্চিত করা যায়। স্হানীয় সরকারের প্রত্যেক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্হাপনা-ওয়ারী একই ফরমেটের Management Software ও Web Tools সরবরাহ করে বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সার্থক e-Local Governance চালু সম্ভব হবে। সহজে ও স্বল্প সময়ে  চাহিদা মাফিক তথ্য, উপাত্ত, প্রতিবেদন ইত্যাদি সংগ্রহ ও প্রকৃয়াজাতকরণ, যাঁচাই, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ করা যাবে। স্হানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সঠিক পরিকল্পনা প্রনয়ণের জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফল বয়ে আনবে। সুতরাং সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচীর আওতায় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করে স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের লোকবলের জন্য ব্যাপক প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও সফ্টওয়্যার সরবরাহ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ, ওয়েব সাইট তৈরী ও সরকারী সার্ভারে ওয়েব হোস্টিং, প্রমিত মানের দরকারী ওয়েব টুলসের ব্যবস্হা করণ ইত্যাদি অপরিহার্য বিষয়। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনে দাতাগোষ্ঠীর সাহায্য নিয়ে পৃথক প্রকল্প কর্মসূচীর মাধ্যমে সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন।

***** বিবিধ

       ক) পৌর এলাকার ভূমি উন্নয়ণ ও সরকারী খাস জমির মালিকানাঃ

কার্যতঃ মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে পৌরসভার দায়িত্ব হলো এর অধিক্ষেত্রে অবস্হিত সকল ভূমির ব্যবহার (Land Use) এবং জনগনের ব্যবহার্য অবারিত ভূমির উন্নয়ণ (Land Development) ও রক্ষণাবেক্ষণ করা। কিন্তু পৌর এলাকার ভূমি উন্নয়ণ কর নিচ্ছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আবার পৌর এলাকায় অবস্হিত রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ইত্যাদি জনগণের অবারিত ব্যবহার্য ভূমির মালিকানা ভূমি মন্ত্রণালয়ের হওয়ায় এসবের যথার্থ উন্নয়ণ ও রাজস্ব আয় বর্ধক প্রকল্প গ্রহনে পৌর কর্তৃপক্ষ বাঁধাগ্রস্হ হয়ে থাকে। ফলে এসব ভূমির যথার্থ ব্যবহার না হয়ে দূর্নীতি ও শ্রীহানির কারণ ঘটে জনস্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে। সুতরাং পৌর এলাকায় অবস্হিত সরকারী খাস জমির মালিকানা এবং পৌর এলাকার ভূমি উন্নয়ণ কর আদায়ের ক্ষমতা পৌর প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যস্তকরণ অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়ের দাবী।

       খ) পিপিপি (Public Private Partnership) পদ্ধতিতে কতিপয় জরুরী সেবার উদ্যোগঃ

 চাহিদা বিবেচনায় পৌর প্রতিষ্ঠানগুলো উপযুক্ত উদ্যোক্তা/ উদ্যোক্তাদের সাথে পৌর এলাকায় পিপিপি পদ্ধতিতে গৃহায়ণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, সুপার মার্কেট নির্মাণ, ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট সেবা, বর্জ্য ব্যবস্হাপণা, গণপরিবহণ, কারিগরী, কম্পিউটার ও আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্হাপন ও পরিচালনা, বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্হ্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্হাপন ও পরিচালনা, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি লাভজনক প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। এ নিমিত্তে সরকার পৌর প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় নীতিমালার আলোকে উপযুক্ত গাইডলাইন ও সহায়তা প্রদান করতে পারেন।

       গ) পৌর তথ্যকেন্দ্র, গবেষণা ও প্রশিক্ষণঃ 

সরকারের Access To Information (A2I) কর্মসূচীর আওতায় ইতোমধ্যে গ্রামীন স্হানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদে কম্পিউটার সরবরাহ, ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করে ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্র স্হাপন করা হয়েছে। জনগণ ইহার সুফল পেতে শুরু করেছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট তৈরী, সরকারী সার্ভারে হোস্টিং, রক্ষণাবেক্ষন ও নিরাপত্তার ব্যবস্হা করা হয়েছে। পৌর বা স্হানীয় সরকারের নগর প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উক্ত কর্মসূচীর আওতায় নগর তথ্যকেন্দ্র স্হাপন, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরী ও হোস্টিংয়ের অনুরূপ ব্যবস্হা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে বিশেষায়িত ও নগর উন্নয়ণ সংক্রান্ত গবেষণার উপাত্ত সহজলভ্য হবে জাতীয় ও বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও দাতা সংস্হার কাছে যা স্হানীয় সরকারের উন্নয়ণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নাগরিক সেবা গ্রহীতাগণও এর মাধ্যমে অনলাইন সেবার সুযোগ পাবেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় স্হানীয় সরকার ইনস্টিউট (NILG) কে শক্তিশালী করেও গ্রামীন ও নগর স্হানীয় সরকারের জন্য স্হায়ীভাবে এসব প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করা যেতে পারে। কিন্তু তা হবে সময় সাপেক্ষ। তবে NILG স্হানীয় গ্রামীণ ও নগর প্রশাসনে কর্মরত জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বুণিয়াদি, পেশাগত ও উন্নয়ণ প্রশাসন বিষয়ে ব্যাপকভাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা নিতে পারে। এজন্যে এ প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের আর্থিক ও লজিষ্টিক সহায়তা প্রদান করতে হবে।

       ঘ) নগর উন্নয়ণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাঃ 

সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাকের অধীনে সরকার, নগর প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীর যৌথ অংশীদারীত্বে একটি নগর উন্নয়ণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। শেয়ারের অনুপাত সরকার নির্ধারণ করবেন। শেয়ার ও বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা যাবে। দেশের প্রতিটি নগর প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ভবনে ১টি করে, রাজধানী মেগাসিটির প্রতিটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভবনে ১টি করে আপাততঃ এর শাখা থাকবে। তাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ভৌত অবকাঠামোগত ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং রাজস্ব আহরণে নগর প্রতিষ্ঠানগুলোরও সুবিধা হবে। নগরের স্হানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ণ, কর্মসংস্হান ও নগর প্রতিষ্ঠানের আয়বর্ধক উন্নয়ণ খাতে বিণিয়োগই হবে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায়ও বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সরকার বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে উপযুক্ত নীতিমালা, বিধি ও আইন দ্বারা উহা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ব্যবস্হা গ্রহণ করতে পারেন। ইহার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, উপযোগীতা ও গ্রহণযোগ্যতা উজ্জ্বল।

        ঙ) নগর অধিক্ষেত্রে বাড়ীভাড়া নিয়ন্ত্রণঃ

নগর মহানগরে অনিয়ন্ত্রিত বাড়ীভাড়া বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নগরবাসীর ক্ষোভ বিক্ষোভ রাজপথ পর্যন্ত গড়িয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন বাড়ীভাড়া প্রদানের সুযোগে সন্ত্রাসীদের আত্মগোপণ ও নিরাপদ কর্মকান্ড, ভেজাল ও অবৈধ ব্যবসা, নকল কারখানা ইত্যাদি অপরাধ প্রশ্রয় পাচ্ছে। রাজস্ব ফাঁকি সহ সরকারের ক্ষতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সুতরাং নগর অধিক্ষেত্রে সকল প্রকার বাড়ীভাড়া প্রদানের পূর্বে হোল্ডিংধারীকে ভাড়াগ্রহীতার প্রয়োজনীয় পরিচিতি, আনুসাংগীক তথ্য ও ভাড়ার হার নির্ধারিত ফরমে প্রদান ও সত্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট নগর প্রতিষ্ঠানে দাখিল এবং যাঁচাইয়ান্তে ফি’র বিনিময়ে নিবন্ধন বা অনুমতি গ্রহণের বিধান থাকা দরকার। এ নিমিত্তে সরকার একটি বিধিমালা প্রনয়ণ করে তা বলবৎ করতে পারেন।

-মোঃ সামসুল আলম

সভাপতি, বাংলাদেশ পৌর সচিব এসোসিয়েশন

তারিখঃ ০৩/০৯/২০১১ খ্রিঃ।

পৃথিবীর অনেক দেশেই জোরেশোরে বইছে দিন বদলের হাওয়া। পরিবর্তনের শ্লোগান শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের কন্ঠে এখন উচ্চকিত হচ্ছে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো। তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্হা উন্নয়ণের সুবাদে মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামত প্রকাশ এবং তা আদান প্রদানের সুযোগ অবারিত ও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। তাই আজ না বলা এবং বলা উচিত জরুরী কথাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে ঘরে বসেই। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকটা স্বাধীনভাবে ও অনায়াসে। গণজাগরনের জন্য এখন বিশেষ কোন বিপ্লবী নেতার প্রয়োজন গৌণ হয়ে গেছে। বিকাশমান মিডিয়া শিল্প ও সাহসী তরুণ প্রজন্মের মিডিয়া কর্মীগণ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সংগ্রাম করে জুলুম অত্যাচার নির্যাতন শোষন থেকে মুক্তির জন্য; মৌলিক অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠার জন্য; দুঃখ কষ্ট গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য; সুশৃংখল স্হিতিশীল ও শান্তিময় জীবন ব্যবস্হার জন্য; সামাজিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সুষম ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্হার জন্য; ঘুণে ধরা রাষ্ট্রকাঠামোয় প্রাতিষ্ঠানিক দূর্বলতা বঞ্চনা দূর্ণীতি দূর করে গণমূখী গতিশীল ও শক্তিশালী জনপ্রশাসন গড়ে তোলার জন্য; ঔপনিবেশিক ধারার কায়েমী স্বার্থবাদী একনায়কতন্ত্র চিরতরে বিদায় করে জ্ঞানভিত্তিক ও গণমূখী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য।

এরূপ পরিবর্তন সাধনের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন হয় জনগণের প্রতিবাদী চেতনার উন্মেষ গণজোয়ার ও গণআন্দোলন। তথ্যের অবাধ আদান প্রদান ও সুশীল সমাজের সক্রিয় ভূমিকা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সূচিত হয় দিন বদলের পালা। এদেশে স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঊনান্নব্বইয়ের গণআন্দোলন পতন ঘটিয়েছিল প্রবল ক্ষমতাধর সামরিক জান্তা এরশাদ সরকারের। গণমানুষের প্রবল উৎসাহে এ পরিবর্তন আমরা দেখেছি পরাক্রমশালী আমেরিকায় সুপার এলিট বুশ সরকারের পতন ও কৃষ্ণাঙ্গ ওবামার সরকার গঠণে। দিন বদলের প্রবল আকাঙ্খার প্রতিফলন আমরা দেখলাম ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে শেখ হাসিনার সরকার গঠণের মাঝে। সম্প্রতি তিউনিসিয়া, সুদান, মিশর, জর্দান- এসব রাষ্ট্রে পরিবর্তনের হাওয়া জোরেশোরেই বয়ে যাচ্ছে। জনজীবনে দিন বদলের প্রয়োজন বা কারণগুলো তীব্র হয়ে উঠলেই পরিবর্তনের গণজোয়ার মহাপ্রলয় হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা পাল্টে দেয়। আর যারা তখন ক্ষমতাসীন হন তাদের উপর গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়ে যায় জনগণের ঐসব প্রয়োজন বা কারণগুলো যথাযথভাবে বুঝে নিয়ে দ্রুত সমাধান করা। এজন্যে নতুন সরকারের কাছে অনেক কিছুই সংস্কারের দায়িত্ব এসে যায়। তখনি দেখা দেয় বিপত্তি। রাষ্ট্রকাঠামোয় গেঁড়ে বসা কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীগুলো ভেতরে বাইরে থেকে প্রচন্ড প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সরকার অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে পড়ে অসহায়। এভাবে সময় চলে যায়। আবার একই পরিনতির শিকার হতে হয় তাদের। এদেশে নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থান পরবর্তী সরকারগুলোর ক্ষেত্রে অন্ততঃ তাই দেখা গেল। কোন রাজনৈতিক দলই সরকার গঠণ করে পরপর দুবার ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।

আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্হা ও আইন কানুনগুলো ঔপনিবেশিক ধারা হতে এখনো স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষের উপযোগী করে পরিবর্তন বা সংস্কার করা যায়নি। রাজনৈতিক সরকার যদিও কোনক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে যুগোপযোগী আইন পাশ করে দেন; কিন্তু সে আইন যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত বিধি প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আটকে যায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতার ফাঁদে। বর্তমান সরকারের প্রবল উৎসাহে এরূপ বহু আইন সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়েছে প্রায় দেড়বছর আগে; কিন্তু এখনো বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়ায় ঐসব আইন কার্যকরতা পায়নি আজো। যেমন, স্হানীয় সরকার উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের জন্য নতুন আইন দেড় বছর আগে জাতীয় সংসদে পাশ করা হলেও উহাদের অধীনে আজো বিধিমালাগুলো প্রণীত হয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পুরাতন ধারা আজো বহাল রয়ে গেছে। নাগরিকগণ নতুন আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো আধুনিক সেবামূখী গতিশীল ও শক্তিশালী হতে পারছে না। উপজেলা চেয়ারম্যান ভাইস-চেয়ারম্যানদের সাথে ইউএনও-দের সম্মুখ সমর খোদ ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেই হুমকীর মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর পঁচাত্তুর পরবর্তী নব্বই পর্যন্ত কোন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় না থাকার কারণে মিলিটারী ও সিভিল ব্যুরোক্রেট এলিটরাই মূলতঃ রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেন। তাতে করে সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত এ দুশ্রেণীর কায়েমী স্বার্থের প্রতিকূলে যে কোন সংস্কার বা পরিবর্তন ঘটানো নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও স্হানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের মাধ্যমে শাসনকাজ পরিচালত হবে-সংবিধানের এ বাধ্যবাধকতা ব্যুরোক্রেট এলিটরা আজো মেনে নিতে পারছেন না। উপজেলা চেয়ারম্যানগণ নির্বাচিত হয়েও নানা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে আজো ক্ষমতহীন। জেলা পরিষদে নির্বাচনের কোন লক্ষণই নেই। আমলাতন্ত্রের প্রতিবন্ধকতার মুখে খোদ সরকারও নীরব ভূমিকা পালন করছে। সে কারণে আমাদের জনপ্রশাসন এখনো ব্রিটিশ বা পাকিস্তানীদের ছেড়ে যাওয়া আদলেই রয়ে গেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্বাহী পদগুলোতে যেসব রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আসীন হন তারাও যেন ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রেতাত্মা দ্বারা সম্মোহিত হয়ে যান। কেতাদূরস্ত আমলা পরিবেষ্টিত হয়ে নানা কায়দা কানুনের ফাঁদে পড়ে জনগণের কাছ থেকে ক্রমশঃ দূরে চলে যান তারা। সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা ভুলে যান। কৃত্রিম নিরাপত্তা বলয়ের মাঝে থেকে আমলা বা দাতাগোষ্ঠীর শেখানো বুলি তোতা পাখির মতো আওড়ে যান। অপরদিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পেশীশক্তি ও চাঁদাবাজদের দৌড়াত্ম, চাটুকার ও বাকসর্বস্বদের আশ্রয় প্রশ্রয়, দলের ভেতরে গণতন্ত্রহীনতা, সৎ মেধাবী ও সাংগঠনিক প্রজ্ঞাবানদের অবমূল্যায়ণ, মনোনয়ণ বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের অধক হারে দলে স্হান করে দেয়া-এসব দৈন্যতা আমাদের জাতিসত্ত্বাকে করে কৃষ্ণগহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

স্বাধীনতার এত বছর পরও একই কায়দায় জনগণ রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে শোষণ নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মৌলিক অধিকার বঞ্চণা, শ্রেণী বৈষম্য, আয় বৈষম্য, সেবা ও বিচার লাভের ক্ষেত্রে সুযোগ বৈষম্য-এসব আঘাত ক্রমাগতভাবে মানুষকে হতাশ, নিরাশ, অপরাধপ্রবণ ও বিপথগামী করছে। বাড়ছে সামাজিক অপরাধ ও অস্হিরতা। কারণ দূরীভূত না করে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান ও বাহিনী গড়ে তাদের অবদমিত করা বা বিনা বিচারে হত্যা করার সংস্কৃতি জাতিকে স্বস্তি দেয়ার পরিবর্তে ভয়ানক পরিস্হিতির দিকে ঠেলে দিবে। অন্ততঃ পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে। পুঁজিপতি, আমলা ও রাজনৈতিক শক্তি মিলে কর্পোরেট ক্রাইম করে দেশের অর্থ বিত্ত তাদের আয়ত্ত্বে নিয়ে অস্বাভাবিক ভোগবিলাসে মেতে উঠে সাধারণ মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। বিশাল জনগোষ্ঠী যেখানে ক্ষুধার জ্বালায় কাতর, পয়সার অভাবে শিক্ষা চিকিৎসা বাসস্হান পাচ্ছে না, শিক্ষিত বেকার যুবকরা কাজের সুযোগ পাচ্ছে না সেখানে তাদের সামনে দিয়ে ঐসব বিত্তবান সুযোগ সন্ধানীরা কোটি টাকা মূল্যের গাড়ী হাঁকাচ্ছে। এসব দৃশ্যের প্রতিকৃয়া সন্ত্রাস ছাড়া সমাজকে আর কী-ই-বা উপহার দিতে পারে? পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটণার অন্তর্ণিহিত কারণের মাঝে প্রধান যে দুটো ক্ষোভের কথা বিডিআর সদস্যদের কন্ঠ হতে আমাদের কর্ণ স্পর্শ করেছে তা হলো-(১) ভিন্ন সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ডেপুটেশনে বা প্রেষণে নিয়োগ অর্থাৎ আর্মি অফিসারদের বিডিআর এ ডেপুটেশন প্রথায় পদায়ণ এবং (২) বাহিনীতে কর্মরত কর্মকর্তাদের সাথে সাধারণ সৈনিকদের বেতনভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিস্তর বৈষম্য। রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি স্তরে একই অবস্হা বিদ্যমান। জাতীয় বেতন কাঠামোয় ২০টি স্তর আজো টিকিয়ে রাখা হয়েছে যা সাংবিধানিক মূলনীতি সমর্থন করে না। এ বৈষম্য কার স্বার্থে?  জাতির জনক বেতনস্কেলের এ স্তর ১০টিতে নামিয়ে এনেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর কায়েমী স্বার্থবাদী সিভিল ও মিলিটারী এলিটরা তাদের ব্যুরোক্রেসী মজবুত রাখার স্বার্থে পূণরায় বেতনস্কেলের ২০টি স্তর বহাল করে উৎকট শ্রেণী বৈষম্য টিকিয়ে রাখেন। এছাড়া সরকারী চাকুরীতে গেজেটেড নন-গেজেটেড, ক্যাডার নন-ক্যাডার ইত্যাদি পার্থক্যের দেয়াল টেনে বৈষম্য কায়েম করা হয়েছে। রাষ্ট্রের চাকুরী কাঠামোয় সুবিধা ও লাভজনক সবগুলো পদই তারা দখল করে থাকেন এমনকি তা ভিন্ন সার্ভিসের হলেও। এজন্যেই ডেপুটেশন প্রথার প্রবর্তন। দেশে এতো উচ্চ শিক্ষিত বেকার। তারা চাকুরী পাচ্ছে না; অথচ বিভিন্ন সার্ভিসে যোগ্য কর্মকর্তার অভাবের অজুহাত দেখিয়ে তারা ঐসব পদে প্রেষণে পদায়ণ পাচ্ছেন। এহেন কায়েমী স্বার্থ টিকিয়ে রাখার ফলে বিভিন্ন সার্ভিস সেক্টরে প্রচন্ড ক্ষোভ দিন দিন দানা বাঁধছে।

দেশে গণমানুষের স্বার্থ ও আকাঙ্খা অভিপ্রায়কে অবহেলা করে কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া হলে তা হবে যে কোন সরকারের জন্য আত্মঘাতী কাজ। যারা জনগণের শ্রম, অর্থ ও সমর্থনের ভিতের উপর দাঁড়িয়ে শুধু পরজীবি হয়েই বেঁচে থাকতে চান তাদের সময় ফুঁরিয়ে এসেছে। সব তন্তর মন্তর এখন অচল। ইন্টারনেট আর মোবাইল ফোনের এ যুগে তারুণ্যের প্রতিভা দূর্বার দূর্বিণীত। সময় থাকতে দেশের রাজনৈতিক সরকার জনগণকে সাথে নিয়ে এ তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দিন বদলের সবগুলো কাজই সেরে নিতে পারেন। জনগণের কাঙ্খিত পরিবর্তনের পথে দৃশ্য অদৃশ্য কোন শক্তিই তখন প্রতিবন্ধক হয়ে সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে না। কাকে বিশ্বাস করবেন তা এখনই ঠিক করুন। তা না হলে জনমূখী কল্যাণ রাষ্ট্র গঠণের জন্য যা যা সংস্কার বা পরিবর্তন যেখানে যেখানে প্রয়োজন-একদিন হয়তো জনগণ নিজের হাতেই করে নেবে।

সরকারের বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ঠিক এ সময়ে নেয়াটা কতটুকু রাজনৈতিক দূরদর্শীতার পরিচয় বহন করে তা নিরপেক্ষ দৃষ্টিসম্পন্ন যে কোন বিবেচক মাত্রই বুঝতে পারেন। শীত মৌসুম গত হয়ে গ্রীষ্মকাল সমাগত। বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার এসময়ে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বাড়েনি। অসহনীয় লোডশেডিং শুরু হবে কিছুদিন পরেই। এমনিতেই সাম্প্রতিক আইন শৃংখলা পরিস্হিতি, দ্রব্যমূল্য, শেয়ার বাজার, পৌরসভা ও উপ-নির্বাচনের ফলাফল সরকারের রাজনৈতিক অবস্হান অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। তার উপর ঠিক এ মূহুর্তে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে তার ফলে পরিবহন ব্যয় ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যে অতিরিক্ত চাপ জনগণের উপর এসে পরবে তার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সরকারকে ভালভাবে আগাম চিন্তা ভাবনা করতে হবে। জনগণের বাস্তব পরিস্হিতির কথা না ভেবে শুধু তাত্ত্বিক পরামর্শক বা দাতাগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করলেই প্রকৃত সমাধান পাওয়া যাবে না। জনগণের মনে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা টিকিয়ে রাখার প্রশ্নটিকে রাজনৈতিক স্বার্থেই প্রাধান্য দিতে হবে।

বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে দেরীতে হলেও সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো আশাব্যঞ্জক। পিপিপি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য দেশী বিদেশী বিণিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে হবে। দেশের স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সিটি ও পৌর কর্তৃপক্ষগুলোকেও একাজে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। বিশেষ করে পৌরসভাগুলোতে ছোট ছোট কনভেনশনাল ও রিনিউয়েবল বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট স্হাপনের উদ্যোগ নিয়ে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা অনেকখানি দূর করা সহজে সম্ভব হতে পারে। এসব প্ল্যান্ট স্হাপনে সরকার, স্হানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ ও ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের যৌথ বিণিয়োগে মূলধন পাওয়া সম্ভব। উৎপাদিত বিদ্যুৎ স্হানীয় পরিচালন ব্যবস্হা ও ব্যবস্হাপনার মাধ্যমে নিজস্ব মূল্যে বিতরন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। কনভেনশনাল উৎপাদন ব্যবস্হায় ব্যবহৃত জ্বালানী গ্যাস, ফারনেস ওয়েল, ডিজেল, কয়লা- এসবের সংগ্রহ মূল্য বা সহজলভ্যতা বিবেচনায় পাশাপাশি রিনিউয়েবল প্ল্যান্টও স্হাপন করা সম্ভব। সোলার প্ল্যান্ট ও বর্জ্য ব্যবস্হাপনার সাথে যুক্ত করে প্রতিটি পৌরসভা অধিক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ উৎপাদন প্ল্যান্ট বসানো যেতে পারে। এরূপ বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্হা পাশাপাশি রাখতে পারলে ন্যাশনাল গ্রীডের সাথে যুক্ত না থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সেবা এসব স্হানীয় কর্তৃপক্ষগুলো জনগণকে দিতে পারবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালাভূক্ত করে পাঁচশালা উন্নয়ণ পরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন।

বিদ্যুৎ সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে চুরি ও অপচয় রোধ করার বিষয়টি এখন মূল্য বৃদ্ধির চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালন ব্যবস্হাপনায় সিস্টেম লসের নামে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে লুটপাট হয়ে যাচ্ছে তা জনগণ জানে। অপরদিকে বিলাসী ও বৈষম্যমূলক জীবনযাপনে অভ্যস্ত সৌভাগ্যবানরা জনগণের টাকায় কীভাবে বিদ্যুতের অপচয় করছেন তাও জনগণ জানে। গরমে গায়ে কোট টাই এঁটে এসি চালিয়ে বিদ্যুতের বাড়তি অপচয় নেহাত বেমানান ও বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতি উপহাস বৈকি! সরকারকে এ বিষয়গুলো আগে ভাবতে হবে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে হবে। তারপর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে একটা পর্যায়ে এসেই কেবল বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করাটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

কালের দর্পণ

পৌর প্রশাসনঃ

নগরবাসীর প্রত্যাশা বনাম সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা

বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুগোপযোগী করে স্হানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করে। বিগত ৬ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে পাশ হওয়া এ পৌরসভা আইনের অধীনে অন্ততঃ ২৩টি  নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কথা। সবার প্রত্যাশা ছিল, এসব বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা হলে দেশের পৌর প্রশাসনে গতিশীলতা ফিরে আসবে এবং নগরবাসীর আধুনিক সেবা ও উন্নণের মান বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু একাজে গত সোয়া এক বছরে সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগের তেমন কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে জনগণের অভিব্যক্তির প্রতিফলন স্বরূপ জাতীয় সংসদে প্রণীত এ নতুন আইনের সুফল নগরবাসীর কাছে আজো পৌঁছতে পারেনি।

বিগত ৩১ মে ২০১০ তারিখে হোটেল রেডিসনে মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) আয়োজিত এক সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্হিত মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামনে পৌর অইনের অধীনে প্রণীতব্য বিধি সমূহের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে স্হানীয় সরকার, পল্লী-উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্হায়ী কমিটির সভাপতি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশের স্হানীয় সরকার ব্যবস্হার অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা বিগত অক্টোবর মাসে সার্বভৌম সংসদে স্হানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করে দিই। কিন্তু এতদিন পরও স্হানীয় সরকার বিভাগ বিধিমালাগুলো তৈরী করতে পারেনি। জনগণ আধুনিক ও যুগোপযোগী করে প্রণীত এ আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারপর তিনি ক্ষোভের সাথেই বলেন যে, তারা (স্হানীয় সরকার বিভাগ) যদি না পারেন তা হলে আমাকে দিন, আমি সংসদীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে বিনা পয়সায় এক মাসের মধ্যে বিধিগুলো তৈরী করে দিব। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সংস্হাপন বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমামও উপস্হিত ছিলেন। পরবর্তীতে হোটেল শেরাটনে ম্যাবের অপর এক সেমিনারেও প্রখ্যাত স্হানীয় সরকার বিশেষজ্ঞগণ ও আমন্ত্রিত অতিথিগণের পক্ষ হতে উক্ত বিধি প্রণয়নে বিলম্বের কারন সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকার দলের মহাসচিব খোদ স্হানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ প্রশ্নের জবাবে তার বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন, বিধি প্রণয়নের কাজ আমলাতান্ত্রিক ফাঁদে আটকে আছে। খোদ মন্ত্রীই যদি এরূপ উক্তি করেন তাহলে জনগণের এত বিশাল ম্যান্ডেটে ক্ষমতাসীন সরকারী দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া স্হানীয় সরকারকে শক্তিশালী করণের ওয়াদার কী হবে? এ কোন আমলাতন্ত্র যাদের কারণে সার্বভৌম জনগণের ম্যান্ডেট ফাঁদে আটকা পড়ে অধঃগতি ও অকল্যান চেপে বসে? জনগণের পয়সায় লালিত হয়ে তারা কী করে জনস্বার্থ বাঁধাগ্রস্ত করতে পারেন? এসব প্রশ্নের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ দেশের পৌরসভা সমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এসে স্হানীয় সরকার বিভাগ তরিঘড়ি বিদায়ী মেয়র কাউন্সিলরগণের সম্মানী ভাতা পূণনির্ধারনের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠে। পৌরসভার কার্যবিধি, কর্মী ব্যবস্হাপনা, পৌর পুলিশ, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সেবা, রাজস্ব ও উন্নয়ণ ব্যবস্হাপনা ইত্যাদি সংক্রান্ত অত্যাবশ্যকীয় বিধি সমূহ প্রণয়নে বিরত থেকে উক্ত সম্মানী ভাতা বৃদ্ধির জন্য বিধিমালা প্রস্তুত অগ্রাধিকার পায়। এ দেশে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখা এবং ব্যক্তি স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়ার ঘটণা বিড়ল নয়। তবে তা অভিশপ্ত হয়ে পড়ে তখনি যখন স্বাভাবিক রীতি-নীতি ও সর্ব লজ্জার সীমা অতিক্রম করে সীমালংঘণের পর্যায়ে পড়ে যায়। শ্রুতি রয়েছে, সরকার দলীয় কয়েকজন প্রভাবশালী পৌর মেয়র মন্ত্রণালয়ের উৎসাহী কর্মকর্তাদের সহায়তায় রাজনৈতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে সরকারী উন্নয়ণ সহায়তা মঞ্জুরী বাজেটের গত অর্থ বছরের পৌরসভা অংশের বরাদ্দ হতে মেয়র ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নামে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা থোক বরাদ্দ কেটে নেন। তা দিয়ে ঐসব সৌভাগ্যবান মেয়র ও স্হানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন বিদেশ ভ্রমন নিয়ে। কর্মকর্তাদের এ বিদেশ ভ্রমন আদৌ মন্ত্রণালয়ের কোন কাজে আসবে কি? মোটেও নয়। নগর উন্নয়ণের অর্থ কেটে নিয়ে তা দিয়ে বিদেশ ভ্রমন নৈতিকতা বহির্ভূত। দেখা গেছে, দপ্তরের কাজ ফেলে রেখে অনেক কর্মকর্তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে বিদেশ ভ্রমন এবং একাজের কাগজপত্র তৈরী, ভিসা ও টিকিট সংগ্রহে। দপ্তরের কাজকর্মে চলে অসহনীয় স্হবিরতা। এভাবে কিছুদিন পরই হয়তো দেখা যাবে পদোন্নতি নিয়ে অথবা বদলী হয়ে তারা চলে যাবেন অন্য দপ্তরে। পত্রিকান্তরে এমন খবরও এসেছে (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ জানুয়ারী), স্হানীয় সরকার বিভাগের একজন প্রভাবশালী যুগ্ম-সচিব (‘ম’ অদ্যাক্ষরে নাম) এগার মাসের চাকুরীকালে দশ বার বিদেশ ভ্রমন করে আসেন। এক্ষেত্রে তারা লাগামহীন, এমনকি সরকারের নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা করতেও রাজী নন। কাজেই মন্ত্রণালয়ের আসল কাজ নীতি নির্ধারণ ও বিধি বিধান প্রণয়নের কাজে তারা মনযোগী হতে পারছেন না। আর এসমস্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর নিরব ভূমিকায় মোটেও সন্তুষ্ট নন দেশের সচেতন নগরবাসী। এ সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক।

এবার দেখা যাক, রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট স্হানীয় সরকার বিভাগের ঐসব কর্মকর্তাগণ জনস্বার্থের পরিবর্তে মেয়াদোত্তীর্ণ বিদায়ী পৌর মেয়র কাউন্সিলরদের কল্যাণের জন্য কতটুকু প্রজ্ঞার পরিচয় রাখতে পারলেন। গত ৭ অক্টোবর ২০১০ তারিখে সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরগণের বিশেষ সুবিধা, কর্তব্য ও দায়িত্বভার (মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী) বিধিমালা, ২০১০ প্রণয়ন করে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১০ অক্টোবর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়। ২০ অক্টোবর স্হানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা হতে ৯০০ নং স্মারকে এ বিধিমালার কপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য সারা দেশের পৌরসভাগুলোতে প্রেরণ করা হয়। উক্ত বিধিমালার ৮ নং বিধিটি যুক্ত হয়েছে ‘বিশেষ বিধান’ শিরোনামে। তা হলো-“মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন পরবর্তী দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ হইতে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে অর্থ থাকা সাপেক্ষে, এই বধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ পর্যন্ত বিধি ৬ এ নির্ধারিত হারে সম্মানী ভাতা বকেয়া হিসাবে উত্তোলণ করিতে পারিবেন।“ উল্লেখিত ৬ নং বিধিতে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করে পূণনির্ধারণ করা হয়। নতুন এ হারে বিশেষ/ক শ্রেণী, খ শ্রেণী ও গ শ্রেণীর পৌরসভার মেয়রগণ যথাক্রমে মাসিক ২০০০০, ১৫০০০ ও ১২০০০ টাকা করে সম্মানী ভাতা পান। কাউন্সিলরগণ পান যথাক্রমে ৫০০০, ৪০০০ ও ৩০০০ টাকা করে। নবনির্ধারিত সম্মানী প্রাপ্তির এ হারে কাউন্সিলরগণ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও উক্ত বিশেষ বিধানের সুবাদে পরিষদের মেয়াদ শেষে বিশাল অঙ্কের বকেয়া প্রাপ্তির যোগ তাদের সবাইকে সন্তুষ্ট রেখেছে। এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জানুয়ারী ২০১১ মাসে যেসব পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল অথবা সঙ্গত কারণে যেগুলোতে নির্বাচন হচ্ছেনা উহাদের অধিকাংশের মেয়াদ প্রায় আট বছর গড়িয়েছে। কোন কোনটি আরো অধিক মেয়াদ পাড় করেছে। পৌরসভা (চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণের সম্মানী পরিশোধ) বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী বিশেষ/ক শ্রেণী, খ শ্রেণী ও গ শ্রেণীর পৌরসভার মেয়রগণ যথাক্রমে মাসিক ৩০০০, ২৪০০ ও ১৮০০ টাকা করে সম্মানী ভাতা পেতেন। কাউন্সিলরগণ পেতেন যথাক্রমে ১২০০, ৯৭৫ ও ৭৫০ টাকা করে। এ হিসেবে অক্টোবর ২০০৯ মাসে জারীকৃত নতুন বিধিমালার বিশেষ বিধান অনুযায়ী দেশের পৌরসভা সমূহের বিদায়ী পরিষদ সদস্যগণ যে পরিমান বকেয়া সম্মানীর অর্থ উত্তোলন করেছেন বা বকেয়া বিল প্রাপ্য হয়েছেন উহার পরিমান প্রায় ৬০ কোটি টাকা। নগরবাসী বঞ্চিত হন সমপরিমান অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্তব্য সেবা ও উন্নয়ণ থেকে।

নগরবাসীর কপাল কেটে উক্ত বিপুল পরিমান অর্থ ঠিক পৌরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কাদের হাতে তুলে দেয়া হল তা একটু ফিরে দেখা প্রয়োজন। এ অর্থের প্রভাব এবারের পৌরসভা নির্বাচনে কীভাবে পড়লো তাও ভেবে দেখা দরকার। বিগত ২০০৪ সালের নির্বাচনে উঠে আসা অধিকাংশ পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরগণ ছিলেন বিএনপি মনোনীত। তাই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এবারের ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনের ঠিক পূর্বক্ষণে ঐসব মেয়র কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দেয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া সম্মানীর অর্থ তাদের দলের অনুকূলে নির্বাচনের মাঠ ভালভাবেই উর্বর করতে সক্ষম হয়েছে। সচেতন মহল মনে করেন, এবারের পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিশাল জয়ের পেছনে মাঠে ছড়ানো উক্ত অর্থের প্রভাব একটা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। প্রশ্ন হলো স্হানীয় সরকার বিভাগ কোন বিবেচনায় এবং কাদের স্বার্থে ঠিক এ সময়ে এসে মহেন্দ্রযোগটি সৃষ্টি করে দিল? অথচ দেশের প্রায় পঁয়তাল্লিশ ভাগ পৌরসভা নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা দিতে পারে না। তড়িঘড়ি বকেয়া সম্মানীর অর্থ তুলে নেয়াকে কেন্দ্র করে অনেক পৌরসভায় পরিষদ সদস্যদের হাতে পৌর কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়েছে।

জনপ্রতিনিধিগণের এরূপ দীর্ঘ সময়ের ভূতাপেক্ষ কার্যকরিতা সহ সম্মানী আহরণের সুযোগ প্রাপ্তির নজীর ইতোপূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি। যাহোক এ অর্থ পরিশোধ করার ফলে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে যে নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা অধিকাংশ পৌরসভা সামাল দিতে ব্যর্থ হবে। নব নির্বাচিত পৌর পরিষদের কাছে এর ধকল নানা জটিলতা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে বিশেষ ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরী প্রদানের মাধ্যমে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে সম পরিমান অর্থ সহায়তা প্রদান করা। আর যত দ্রুত সম্ভব পৌরসভা আইনের অধীনে প্রণীতব্য সবগুলো বিধি প্রণয়ন ও কার্যকর করা। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীগণ সজাগ হবেন এবং প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করবেন-এটাই আপামর নগরবাসীর প্রত্যাশা।

-২২ জানুয়ারী ২০১১ খ্রিঃ।

<-পাতা-১ এ ফিরে যান

০৪

নির্বাহী বিভাগ

০১

রাষ্ট্রপতি

৪৮

রাষ্ট্রপতি

৪৯

ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার

৫০

রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ

৫১

রার্ষ্ট্রপতির দায়মুক্তি

৫২

রার্ষ্ট্রপতির অভিশংসন

৫৩

অসামর্থের কারণে রার্ষ্ট্রপতির অপসারন

৫৪

অনুপস্হিতি প্রভৃতি কারণে রার্ষ্ট্রপতি পদে স্পীকার

০২

প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভা

৫৫

মন্ত্রীসভা

৫৬

মন্ত্রীগণ

৫৭

প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ

৫৮

অন্যান্য মন্ত্রীর পদের মেয়াদ

৫৮.ক

পরিচ্ছেদের প্রয়োগ

০২.ক

 (বাতিলকৃত)

০৩

স্হানীয় সরকার

৫৯

স্হানীয় সরকার

৬০

স্হানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা

০৪

প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ

৬১

সর্বাধিনায়কতা

৬২

প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগে ভর্তি প্রভৃতি

৬৩

যুদ্ধ

০৫

অ্যাটর্ণী জেনারেল

৬৪

অ্যাটর্ণী জেনারেল

০৫

আইন সভা

০১

সংসদ

৬৫

সংসদ প্রতিষ্ঠা

৬৬

সংসদে নির্বাচিত হইবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৬৭

সদস্যদের আসন শূণ্য হওয়া

৬৮

সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক ইত্যাদি

৬৯

শপথ গ্রহণের পূর্বে আসন গ্রহণ বা ভোটদান করিলে সদস্যের অর্থদন্ড

৭০

পদত্যাগ ইত্যাদি কারণে আসন শূণ্য হওয়া

৭১

দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা

৭২

সংসদের অধিবেশন

৭৩

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষন ও বাণী

৭৩.ক

সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার

৭৪

স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার

৭৫

কার্যপ্রণালী বিধি, কোরাম প্রভৃতি

৭৬

সংসদের স্হায়ী কমিটিসমূহ

৭৭

ন্যায়পাল

৭৮

সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি

৭৯

সংসদ সচিবালয়

০২

আইন প্রণয়ন ও অর্থ-সংক্রান্ত পদ্ধতি

৮০

আইন প্রণয়ন পদ্ধতি

৮১

অর্থ বিল

৮২

আর্থিক ব্যবস্হাবলীর সুপারিশ

৮৩

সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা

৮৪

সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব

৮৫

সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ

৮৬

প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ

৮৭

বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি

৮৮

সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়

৮৯

বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি

৯০

নির্দিষ্টকরণ আইন

৯১

সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী

৯২

হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট

৯২.ক

[বিলুপ্ত]

০৩

অধ্যাদেশ প্রণয়নের ক্ষমতা

৯৩

অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতা

০৬

বিচার বিভাগ

০১

সুপ্রীম কোর্ট

৯৪

সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা

৯৫

বিচারক নিয়োগ

৯৬

বিচারকের পদের মেয়াদ

৯৭

অস্হায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ

৯৮

সুপ্রীম কোর্টের অতিরিক্ত বিচারকগণ

৯৯

বিচারকগণের অক্ষমতা

১০০

সুপ্রীম কোর্টের আসন

১০১

হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার

১০২

কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা

১০৩

আপীল বিভাগের এখতিয়ার

১০৪

আপীল বিভাগের পরওয়ানা জারী ও নির্বাহ

১০৫

আপীল বিভাগ কর্তৃক রায় বা আদেশ পূণর্বিবেচনা

১০৬

সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার

১০৭

সুপ্রীম কোর্টের বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা

১০৮

“কোর্ট অব রেকর্ড” রূপে সুপ্রীম কোর্ট

১০৯

আদালত সমূহের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ

১১০

অধঃস্তন আদালত হইতে হাইকোর্ট বিভাগে মামলা স্হানান্তর

১১১

সুপ্রীম কোর্টের রায়ের বাধ্যতামূলক কার্যকরতা

১১২

সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা

১১৩

সুপ্রীম কোর্টের কর্মচারীগণ

০২

অধঃস্তন আদালত

১১৪

অধঃস্তন আদালত সমূহ প্রতিষ্ঠা

১১৫

অধঃস্তন আদালতে নিয়োগ

১১৬

অধঃস্তন আদালত সমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃংখলা

১১৬ক

বিচার বিভাগীয় কর্মচারীগণ বিচারকার্য পালণের ক্ষেত্রে স্বাধীন

০৩

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল

১১৭

প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সমূহ

০৭

নির্বাচন

১১৮

নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা

১১৯

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব

১২০

নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ

১২১

প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা

১২২

ভোটার তালিকায় নামভূক্তির যোগ্যতা

১২৩

নার্বাচন অনুষ্ঠানের সময়

১২৪

নির্বাচন সম্পর্কে সংসদের বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

১২৫

নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা

১২৬

নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তাদান

০৮

মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক

১২৭

মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা

১২৮

মহা হিসাব-নিরীক্ষকের দায়িত্ব

১২৯

মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কর্মের মেয়াদ

১৩০

অস্হায়ী মহা হিসাব-নিরীক্ষক

১৩১

প্রজাতন্ত্রের হিসাব রক্ষার আকার ও পদ্ধতি

১৩২

সংসদে মহা হিসাব-নিরীক্ষকের রিপোর্ট উপস্হাপন

০৯

কর্ম কমিশন

০১

কর্ম বিভাগ

১৩৩

নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলী

১৩৪

কর্মের মেয়াদ

১৩৫

অসামরিক সরকারী কর্মচারীদের বরখাস্ত প্রভৃতি

১৩৬

কর্ম বিভাগ পূণর্গঠন

০২

সরকারী কর্ম কমিশন

১৩৭

কমিশন প্রতিষ্ঠা

১৩৮

সদস্য নিয়োগ

১৩৯

পদের মেয়াদ

১৪০

কমিশনের দায়িত্ব

১৪১

বার্ষিক রিপোর্ট

০৯ক

জরুরী বিধানাবলী

১৪১ক

জরুরী অবস্হা ঘোষণা

১৪১খ

জরুরী অবস্হার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্হগিতকরণ

১৪১গ

জরুরী অবস্হার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্হগিতকরণ

১০

সংবিধান সংশোধন

১৪২

সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা

১১

বিবিধ

১৪৩

প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি

১৪৪

সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব

১৪৫

চুক্তি ও দলিল

১৪৫ক

আন্তর্জাতিক চুক্তি

১৪৬

বাংলাদেশের নামে মামলা

১৪৭

কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি

১৪৮

পদের শপথ

১৪৯

প্রচলিত আইনের হেফাজত

১৫০

ক্রান্তিকালীন ও অস্হায়ী বিধানাবলী

১৫১

রহিতকরণ

১৫২

ব্যাখ্যা

১৫৩

প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

তফসিল

প্রথম

অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন

দ্বিতীয়

[বিলুপ্ত]

তৃতীয়

শপথ ও ঘোষণা

চতুর্থ

ক্রান্তিকালীন ও অস্হায়ী বিধানাবলী।