স্থানীয় সরকারের পৌর প্রশাসনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য চেতণার উন্মেষ ঘটানোর প্রচেষ্টা

জনপ্রশাসন ও আমলাতন্ত্র



জনপ্রশাসন ও আমলাতন্ত্র


আধুনিক একটি রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের নাম আমলাতন্ত্র। কার্যত রাজনীতিবিদরা পরিবর্তিত হলেও আমাদের দেশে আমলাতন্ত্র পরিবর্তিত হয়না। কিন্তু দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগগ্রতিতে এই আমলাতন্ত্রই ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে। এগারোই জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর রাজনীতিবিদদের বিষয়ে যেমন দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, আমলাতন্ত্রকে তেমন কোন চাপের মুখে রাখা হয়নি। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি কখনোই সম্ভব হতোনা, যদি আমলারা এতে সমর্থন না দিতো। দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ৫ এপ্রিল ২০০৭ সংখ্যায় বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র বিষয়ে একটি অতি চমৎকার বিশ্লেষণ ছাপা হয়েছে। যদিও এই বিশ্লেষণ-এর পুরোটাই সঠিক নয়, তথাপি এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। আমাদের আমলাতন্ত্র সম্পর্কে এমন বক্তব্য তেমন খুব একটা পাওয়া যায়না। আমাদের সময়-এর প্রতিবেদনের অংশবিশেষ এখানে উদ্ধৃত করা হলোঃ

রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণেই বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র সঠিক পথে এগুতে পারেনি; বরং ভুল অবস্থান থেকে শুরু, সিএসপি-বিসিএস দ্বন্দ্ব, দলবাজি, দুর্নীতি, ব্যাচে ব্যাচে কোন্দল, ধারাবাহিকবিহীন কর্ম পদ্ধতি এবং আত্মীয়তা ও ঘনিষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেয়ায় আমলাতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার চেহারা গড়ে ওঠেনি। অথচ প্রশাসনের বর্তমান সীমাবদ্ধতা, অসততা, অনিয়ম, ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা দূর করতে পেশাদারিত্বের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের অন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসনের সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পয়েল সিস্টেমের মতো একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রর্বতণের কথা বিবেচনার সুপারিশ করেছেন কেউ কেউ। সাবেক ও বর্তমান সচিবদের অনেকেই এমনটি মনে করেন। তাদের মতে, গত ৩৬ বছরেও বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার চেহারায় অঙ্কুরিত হয়নি। এর অন্তর্নিহিত কারণগুলোর অন্যতম হচ্ছে-রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে ভুল অবস্থান থেকে আমলাতন্ত্রের যাত্রা। এদেশে বৃটিশ শাসনকে পাকাপোক্ত ও স্থিতিশীল করতেই যাত্রা শুরু হয়েছিল বৃটিশ আমলাতন্ত্রের। বৃটিশের সেই আমলাতন্ত্রে সিভিল সোসাইটি ও জনপ্রিতিনিধির কাছে জবাবদিহিতার কোনো বিষয় ছিল না। বৃটিশদের সেই ধারাবাহিকতায়ই গড়ে ওঠেছিল পাকিস্তানের আমলাতন্ত্র। বৃটিশ ও ভারতের অভিজ্ঞতায় পাকিস্তানের সেই আমলারা ছিল এলিট শ্রেণীর এবং রাজনীতিবিদদের চেয়ে দক্ষ। পাশাপাশি মুসলিম লীগে বোদ্ধা ও বিশ্বাসী সহকর্মীর অভাবে গর্ভনর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান দুজনই ছিলেন আমলানির্ভর। রাজনীতিকদের ওপর তাদের আস্থারও অভাব ছিল। ফলে রাজনীতিকদের কর্মকান্ডের ওপর নজরদারি করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ ছিল আমলাদের প্রতি। আমলারা রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিবাজ, লোভী, অসৎ ইত্যাদি বিশেষণ জুড়ে দিয়ে প্রতিবেদন দিত। শিক্ষা, এলিট ভাবাপন্নতা, অর্থ-বিত্ত, চলনে বলনে রাজনীতিবিদরা কখনোই আমলাদেরকে প্রভাবিত করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী ছিলেন ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে বসতি স্থাপন করা বাস্তুহারা। এজন্য পাঞ্জাবী ও আমলারা তাকে পাত্তাই দিত না। আমলাদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী বক্তৃতায় বলতেন ‘আপনারা জনগণের মনিব, এদের শাসনভার আপনাদের ওপর।’ অথচ ভারতে হয়েছিল এর উল্টোটি। ১৯৪৮ সালে জওহরলাল নেহেরু ভারতের আইসিএসদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন ‘আপনারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন।’ ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময় ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) ও ভারতীয় অডিট সার্ভিসের কয়েকজন আমলা অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রক্ষমতার শিখরে আরোহণই তাদের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। অডিট সার্ভিসের ডাকসাইটে আমলা গুলাম মোহাম্মদ পাকিস্তানের প্রথম অর্থমন্ত্রী নিযুক্ত হন। একই সার্ভিসের অপর সদস্য চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) সবচেয়ে প্রভাবশালী সচিব হন। পরবর্তীতে এই আমলার জন্য সরকারকে সেক্রেটারি জেনারেলের পদ সৃষ্টি করতে হয়েছিল। তার অবসরের সঙ্গে সঙ্গে পদটিও বিলুপ্ত হয়ে যায়। পাকিস্তানের সাবেক সেনা শাসক আইউব খান তার এক লিখায় উল্লেখ করেছেন, ১৯৫১ সালে লিয়াকত আলী খান খুন হওয়ার পেছনে তিন আমলা জড়িত ছিলো। লিয়াকত আলী খান খুন হওয়ার দুবছর পর ১৯৫৩ সালে গুলাম মোহাম্মদ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল এবং চৌধুরী মোহাম্মদ আলী হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। প্রায় এক বছর পর গুলাম মোহাম্মদের জায়গায় গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের সদস্য ইস্কান্দার মির্জা। ১৯৫৪এর নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানে মুসলিম লীগ এবং পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পাকিস্তানে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য মুসলিম লীগ চৌধুরী মোহাম্মদ আলীকে নেতা নির্বাচিত করে। কিন্তু মোহাম্মদ আলী যুক্তফ্রন্ট ও সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান। যদিও এক বছরের মাথায় সেই ক্ষমতা সোহরাওয়ার্দীর হাতে ছেড়ে দিতে হয়েছিল। গুলাম মোহাম্মদ, ইস্কান্দার মির্জা ও মোহাম্মদ আলী এই তিনজনের হাত ধরে গড়ে ওঠা আমলাতন্ত্র পাকিস্তানে একাধারে মনিব শ্রেণীর আমলাতন্ত্র ও শাসনকর্তা হিসেবে দীর্ঘকাল রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের সরাসরি আহ্বানেই ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন সেনাশাসক আইয়ুব খান। পাকিস্তানী আমলাতন্ত্রের নখ দন্তে সন্ত্রস্ত বাংলাদেশী শাসকশ্রেণী স্বাধীনতার পর আমলাদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি। সংবিধানেও তাদের চাকরির নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র সেই পুরুনো বৃটিশ কাঠামোর মধ্যেই বেড়ে ওঠে। বৃটিশদের শাসন করার যে নীতি, সেই নীতিকাঠামোয় দাঁড়িয়েই এদেশের আমলাতন্ত্রের যাত্রা শুরু। বৃটিশ আমলাতন্ত্রে যেমন ঊর্ধতনদের কাছেই জবাবদিহিতা সীমাবব্ধ ছিল, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমনটিই হয়েছে। জনগণ কিংবা রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। রাষ্ট্রের অন্য দুটি স্তম্ভ আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে আমলাদের সুসম্পর্ক নেই। বরং আইন বিভাগের সঙ্গে রয়েছে এক ধরনের সুবিধা কেন্দ্রিক সম্পর্ক। অবশ্য আচমকাই বাংলাদেশের সিভিল প্রশাসনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ‘৭১-এর ১২ মার্চ মুজিবনগর সরকারে ডেপুটি সেক্রেটারি পদের তৌফিক ইমাম, নুরুল কাদের, আবদুস সামাদ, খন্দকার আসাদুজ্জামান, ফয়েজ উদ্দিনসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসক যোগদান করেন। তারাই গোড়াপত্তন ঘটান অস্থায়ী সরকারের সিভিল প্রশাসনের। এদিকে প্রশাসনে জনবলহীনতার কারণে ৭৩ সালে প্রথম ভাল করে পরীক্ষা নেয়া ছাড়াই ব্যাপক সংখ্যক জনবল নিয়োগ করা হয়। বঙ্গবন্ধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস (আইএমএস) নামে আলাদা একটি সার্ভিস চালু করেন। পরে এ সার্ভিসটি বিলুপ্ত হলে এ সার্ভিসের ক্যাডাররা প্রশাসন ক্যাডারে অধিভুক্ত হয়। স্বাধীনতার পর পরই যারা বৈষম্যের স্বীকার হয়েছেন ‘৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর তারা পেয়ে যান বিশেষ সুবিধা। খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতাসীন হলে আওয়ামী লীগ আমলের বিশেষ সুবিধা প্রাপ্তদের মধ্যে খন্দকার আসাদুজ্জামান ও তৌফিক ইমামকে চাকরিচ্যূত করা হয়। আর সে সময় সফিউল আজমসহ বহিষ্কৃত ও বঞ্চিতদেরকে পুনর্বহাল এবং পদায়িত করা হয়। পুনর্বহালের তালিকায় এর আগের বঞ্চিত ৯ সিএসপি অফিসারও ছিলেন। অর্থাৎ স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্দ্ব, সিএসপি, ইপিসিএস ও বিসিএস দ্বন্দ্ব ও পারস্পরিক বিদ্বেষ। চাকরির নিরাপত্তা না থাকায় কর্মকর্তারা তোষামোদকারী ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েন। পাশাপাশি উদ্যোগী ভূমিকা পালন ও সৃষ্টিশীল কাজে আগ্রহ থেমে যায়। ফলে চাকরিটি হয়ে পড়ে বেতন ও চেয়ার কেন্দ্রিক। অন্যদিকে, সিএসপি অফিসারদের এলিট মনোভাব ‘৭৫-এর পর সুপার এলিট শ্রেণীতে পরিণত হয়। অতীত দক্ষতায় তারা প্রশাসনকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যে, রাজনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক জেনারেলদের কাছে তাদের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। তারা বিসিএসকে ব্যঙ্গ করে বলতো বাংলাদেশ ক্যাটেল সার্ভিস। যে সিএসপিদের হাত ধরে এদেশের সিভিল সার্ভিস বিকশিত হওয়ার কথা সেই সিএসপিরা ব্যুরুক্রেসি গড়ে তোলার দায়িত্ব না নেয়ায় এদেশের ব্যুরুক্রেসির কোনো চরিত্রই আর দাঁড়ায়নি। সিভিল সার্ভিসের শূন্যতা পুরণে সিএসপিরা বিসিএসদের হাতে-কলমে কাজ শেখালে এদেশে ব্যুরুক্রেসির পেশাদার চরিত্র দাঁড়াতে পারতো বলে মনে করেন অনেক কর্মকর্তা। এদিকে, ১৯৭৩-এর পর ‘৭৭ সালে বিসিএস-এ দ্বিতীয় ব্যাচ নিয়োগ দেয়া হয়। ৭৯, ৮১ ও ৮২ ব্যাচও ভালো ব্যাচ হিসেবে পরিচিত। এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে প্রশাসনকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে উপজেলা পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। উপজেলা আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮৩ সালে ৬৫০ জনের বিশাল সংখ্যক একটি ব্যাচকে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র এমসিকিউর (টিক চিহ্নের পরীক্ষার) মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়। এদের বয়সসীমা ৫০ বছর পর্যন্ত উম্মুক্ত ছিল। তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও হয়নি। এসব কারণে এ নিয়োগের শর্ত ছিল এরা উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেই অবসরে যাবে। কিন্তু রাজনৈতিক তদবিরে এ শর্ত প্রত্যাহার করে এদেরকে সিভিল প্রশাসনের ধারাবাহিকতায় যুক্ত করা হয়। ৮৩ সালের পর পরই একই সময়ে ৮৪-তম ব্যাচে ৪৫০ এবং ও ৮৫-তম ব্যাচে রিক্রুট করা হয় ৫৫০ জনকে। সমসাময়িক সময়ে উপর্যুপরি তিনটি ব্যাচে অধিক সংখ্যক নিয়োগের ফলে সিভিল সার্ভিসে অপেক্ষাকৃত দুবর্লরাও প্রবেশের সুযোগ পেয়ে যায়। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, আইন ও প্রশাসনসহ ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের কোনো কোর্স করতে পারেনি এরা। পরে কেউ কেউ স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। ওই সময় নির্বাচন অফিসার ও সেনানিবাসের নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকেও সিভিল প্রশাসনে আত্মস্থ করা হয়। এসব নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ পদায়ন ও পদোন্নতিতে মারাত্মক স্থিতাবস্থা সৃষ্টি হয়। ১০টি পদের বিপরীতে ১৫ থেকে ২০ জনকেও পদায়িত করতে হয়েছে। অন্যদিকে আত্মস্থ হওয়া প্রশিক্ষণবিহীন অফিসারদের পেশাদার মনোবৃত্তির ঘাটতির কারণে প্রশাসন ক্রমান্বয়ে দুর্নীতিপ্রবণ হয়ে পরে। দুর্নীতির দায়ে গত জরুরী অবস্হার সময় যৌথবাহিনীর হাতে চট্টগ্রামে গ্রেফতার হওয়া ডিসি মো. হাসান নির্বাচন অফিসার থেকে আত্মস্থ হয়েছিলেন। এখনো যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে তাদের অধিকাংশই আত্মস্থ হওয়া। সিভিল প্রশাসনে সিএসপিদের হীনমন্যতা এবং উপর্যুপরি দুর্বল রিক্রুটমেন্টে বিসিএস ক্রমান্বয়ে অদক্ষ ও অকর্মণ্য হয়ে পড়ে। সে সময় রাজনীতিবিদরা সিএসপি নির্ভর হয়ে পড়ে। সিভিল প্রশাসনের জুনিয়ররা পদস্থদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও নির্দেশনা পায়নি। ৮৫ ব্যাচটি সালাহউদ্দিনের ব্যাচ হিসেবে পরিচিতি পায়। এই ব্যাচ থেকেই অমুকের ব্যাচ তমুকের ব্যাচ নামে পরিচিতি পেতে থাকে। মূলত আন্তব্যাচ কলহ ও রাজনৈতিক নৈকট্য লাভের হীন প্রচেষ্টার কারণেই এ পরিচয় দাঁড়িয়ে যায়। ৮৬ সালের ব্যাচটি ৮৬এর ব্যাচ না হয়ে ৮ম ব্যাচ হিসেবে পরিচিতি পায়। এরপর থেকেই ৯ম, ১০ম ব্যাচ হিসেবে ব্যাচ পরিচিতি শুরু হয়। এই ৮ম থেকে ১৯তম ব্যাচ পর্যন্ত নিয়োগ নিয়ে আর কোনো বিতর্ক হয়নি। ২০তম ব্যাচে স্বল্পসংখ্যক নিয়োগের জন্য সার্কুলার জারি করে নিয়োগ দেয়া হয় বেশি। তখনই পিএসসি নিয়ে প্রথম প্রশ্ন ওঠে। এরপর ২৪, ২৫ ও ২৭তম ব্যাচে এসে পিএসসি নিয়ে বিতর্ক ব্যাপকতা পায়। অথচ এ জাতীয় অভিযোগ সিভিল সার্ভিসের এবং আমলাতন্ত্রের ভাবমূর্তির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ জাতীয় অভিযোগ নিয়ে আমলাতান্ত্রিক কর্মজীবনে প্রবেশ কখনোই সুখকর হয় না। সিএসপি বিষয়ক আইন কানুন তৈরি হয়েছিল ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট অনুযায়ী। পাকিস্তানের সংবিধানেও সেগুলোই অনুমোদিত হয়। ফলে পাকিস্তান প্রশাসনের সচিবালয়ের উপ-সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলোর দুই তৃতীয়াংশই সিএসপিদের জন্য সংরক্ষিত ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশে পর্যাপ্ত সিএসপি না থাকায় বাংলাদেশ সমন্বিত সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) এবং সিনিয়র পলিসি পুলের (এসপিপি) প্রবর্তন করে শূন্যতা পূরণ ও সংরক্ষণ প্রথা বিলুপ্ত করা হয়। উপ-সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলো এসপিপির অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে বিসিএস এর ১৪টি শাখার যেকেউ নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে এসপিপির সদস্য হতে পারতেন। তবে এতে বিসিএস (প্রশাসন) ও বিশেষজ্ঞ প্রকৃচি (প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসক) ক্যাডারদের মধ্যে ভিন্ন দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বিসিএস (বিশেষজ্ঞ) দের উচ্চ পদের যে কেউ ইচ্ছে করলেই সচিবালয়ের উচ্চ পদে আসতে পারতেন। কিন্তু বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের বিশেষজ্ঞদের উচ্চ পদে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এদিকে, মাঠ প্রশাসনে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পুলিশ সুপারের (এসপির) ওপর জেলা প্রশাসকের (ডিসির) নিয়ন্ত্রণ ছিল। এসপির কাজের মূল্যায়ন করে ডিসি বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠাতেন। আইয়বু খান ৬০ সালে ডিসির এ ক্ষমতা প্রত্যাহার করেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার এটি পূণঃপ্রবর্তন করেছিলেন। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেই সেই ক্ষমতা আবার প্রত্যাহার করেন। জিয়া সরকার ১৯৭৬-৮০ সাল পর্যন্ত সময়ে ২৩ জন সামরিক অফিসারকে এসপি পদে পদায়িত করেন। এতে সিভিল প্রশাসন সামরিকায়ন আতঙ্কে সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। সে সময় বেতন কাঠামোর দিক থেকেও সাধারণ ক্যাডারদের ছোট দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ১৯৭৮ সালে নতুন বেতন কাঠামোয় সাধারণ ক্যাডারদের বিশেষজ্ঞদের নিচে নামিয়ে আনা হয়। এ স্কেলে ডিসির বেতন ছিল ১৪০০-২২২৫ টাকা। একই মর্যাদার সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের বেতন ছিল ২১০০-২৬০০ টাকা। এসব কারণে জেলা পর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা ও উন্নয়নমূলক কাজের সমন্বয়ে ব্যাঘাত শুরু হয়। এই শূন্যতা পূরণের জন্য ১৯৮০ সালে জিয়া সরকার একজন সংসদ সদস্যকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ডিস্ট্রিক্ট ডেভলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর (ডিডিসি) নিযুক্ত করেন। কিন্তু এতে কার্যকর কিছু হয়নি। অবশ্য এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার বাকশাল গঠন করে একজন সংসদ সদস্যকে জেলার গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। বলা হয়েছিল সাধারণ ও রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান হিসেবে জেলা গভর্নর জেলার প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করবেন। আদালতকে তার কর্মের বাইরে রাখা হয়েছিল। আইন বিভাগ ছাড়া জেলার অন্য আমলারা তার অধস্তন হবেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে এ নিযুক্তি মাঠে গড়ায়নি। এরশাদ শাসনামলের মাঝামাঝি সময়ে জেলা পরিষদকে পুনরুজ্জীবিত করে একজন সাংসদ বা রাজনৈতিক নেতাকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানই তখন জেলার উন্নয়নের কাজ দেখাশুনা করতেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ৰমতায় এসে একজন সংসদ সদস্যকে জেলা মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করে। জেলা মন্ত্রীগণ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও আইন শৃঙ্খলা কমিটির সার্বিক কাজ মনিটর শুরম্ন করেন। অথচ কাগজে-কলমে জেলা প্রশাসক হচ্ছেন এ কমিটির সভাপতি। বৈধতা ছাড়াই জেলা মন্ত্রীগণ সমন্বয় কমিটির সভা গুলোতে সভাপতিত্ব করতেন এবং কাজকর্ম দেখাশুনা করতেন। এতে সমন্বয় কমিটির সভাগুলোয় ওই জেলা মন্ত্রীর সমর্থক কিংবা দলীয় নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠতো। এতে সমন্বয় কমিটি হয়ে পড়তো অতি মাত্রায় দলীয় রাজনীতি প্রভাবিত। জেলা প্রশাসক ও অন্য কর্মকর্তাগণ মাঠ প্রশাসনে গৌণ হয়ে পড়তেন। এ ধারাবাহিকতা পরবর্তী আ’লীগ এবং সর্বশেষ চার দলীয় জোট সরকারের আমলেও অব্যাহত ছিল। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানে মোট ২৮টি কমিশন গঠিত হয়। এসব কমিশন প্রশাসনিক সংস্কার, পুনর্বিন্যাস, পদ্ধতিগত উন্নয়নের সুপারিশ করে। বাংলাদেশে ১৯৭১ থেকে সামরিক শাসনসহ ৯৭ সাল পর্যন্ত সবকটি সরকারের সময়ে গঠিত হয়েছে মোট ১৩টি কমিশন। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে গঠিত হওয়া এটিএম শামসুল হকের কমিশনটিই একটি পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পেশ করেছে। এই কমিশন নিউ পাবলিক ম্যানেজমেন্টের (এনপিএম) ধারণা সম্বলিত মোট ১৩৭টি সংস্কারের প্রস্তাব দেয়। এরমধ্যে ৩০টি অন্তর্বর্তীকালীন,৭০টি স্বল্প্ব মেয়াদি এবং ৩৭টি ছিল দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব। কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাগুলো ছিল স্বচ্ছ ও জবাবদিহি মূলক প্রশাসন। পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে সমমনা মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে ক্লাস্টার্স সিস্টেমের প্রচলন করে কর্মকর্তাদেরকে ক্লাস্টার্স মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বদলি সীমিত করা। সিনিয়রিটি, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নের জন্য বর্তমান সুপিরিয়র সার্ভিস পুল (এসএসপি) স্ট্রাকচারের পরিবর্তে সুপিরিয়র ম্যানেজমেন্ট পুল (এসএমপি) করা। মেধার ভিত্তিতে ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ এবং পদোন্নতি প্রদান এবং কোটা প্রথা বাতিলের সুপারিশ করা হয়। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের নতুনভাবে মূল্যায়ন করা। প্রতিষ্ঠান ও জনশক্তির আধিক্য কমানো এবং স্বাধীন ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন। প্রস্তাবে চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর, সার্বক্ষণিক ব্যাংকিং, পুলিশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, ইউটিলিটি সার্ভিস গুলোকে একত্রিত করে শুক্র-শনিবারেও চালু রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যে, এসব সুপারিশ কে কবে বাস্তবায়ন করবে?

আমলাতন্ত্র নিয়ে সাবেক ও বর্তমান তিন আমলার কথা:

বর্তমান জনপ্রশাসন প্রসঙ্গে সাবেক কেবিনেট সচিব ড. সা’দত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রশাসনকে ধ্বংস করে ফেলেছে। প্রশাসনে যারা এখনো করাপ্ট হয়নি তারাও ধান্ধাবাজ হয়ে গেছে। অফিসের কাজে তাদের উৎসাহ কমে গেছে। দলবাজি সরকারের পাওয়ারের স্ট্রাকচারের ভেতর ঢুকে গেছে। যারা ৰমতায় থাকে তারা কিভাবে চালাবে এর ওপর নির্ভর করে জন প্রশাসন। রাজনীতিবিদরাই এর নিয়ন্ত্রক। ইচ্ছে করলেই কেউ আলাদাভাবে ভালো থাকতে পারবে না। ভালো থাকতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দেয়া ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ থাকে না। বঙ্গবন্ধু, মোশতাক, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সবাই পারসোনাল ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে জনপ্রশাসকে চালিয়েছেন। কেউ ব্যূরুক্রেসিকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেননি। স্বাধীনতার পর থেকেই ভুল পথে চলতে শুরু করে ব্যূরুক্রেসি। তখন থেকেই সিনিয়রিটি ডিটারমিন করা যায়নি। সংবিধানেও ব্যূরুক্রেসিকে কোনো প্রোটেকশন বা গুরুত্ব দেয়া হয় নি। চাকরি টিকিয়ে রাখার মতো কোনো খুটি নেই আমলাদের। ফলে সবসময় তারা সন্ত্রস্ত ও নার্ভাস থাকে। কাজ করার জন্য যথেষ্ট কনফিডেন্স পায় না। পাওয়ার গ্রুপের কথার বাইরে যাওয়া বা মতামত দেয়ার সাহস দেখায় না। তথাপিও যতোদিন সিএসপিরা ছিল ততোদিন ওরা বলতো, সুপারসিড হতো না। ২০০২ এ সিএসপিরা চলে যাওয়ার পর সেই ক্যাপাবিলিটি শেষ হয়ে গেছে। এখন যারা সচিব তাদের অনেকেই যুগ্ম সচিব হিসেবে যে ধরনের দক্ষতা অর্জন দরকার সেটাও করেনি। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে কী হবে বলা মুশকিল। তার মতে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। কোয়ালিটি সার্ভিসের জন্য বাস্তবানুগ একটি বেতন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে যখন তখন সরানোর পথ বন্ধ করতে হবে। সরাতে হলে সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রক্রিয়া ছাড়া সরানো যাবে না এমন বিধান করতে হবে। পিএসসিতে যোগ্য লোককে নিয়োগ দিতে হবে। চাকরির ক্ষেত্রে সব ধরনের কোটা প্রথা বাদ দিতে হবে। তিনি বলেন, কেবিনেট, সংস্থাপন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও আইন সচিব এই ৫ সচিব পদে নিযুক্তদের বেলায় নিশ্চয়তা থাকতে হবে যে তারা নির্দ্বিধায় মতামত দিতে পারবে, এতে তাদের কোনো ৰতি হবে না। এমনকি বদলিই হবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি। তাহলেও ব্যুরুক্রেসি সাহস নিয়ে কাজ করতে পারতো। বেতন কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই বেতন কাঠামো ছিল দুর্বল। স্বাধীনতার পর একজন ডিসির বেতন ছিল ৫শ এবং তার মেন্টেনেন্স খরচও ছিল ৫শ টাকা। ৩/৪ মাস পর বেতন বেড়ে হয়েছিল ১ হাজার টাকা। স্বাধীনতার আগের ৯শ পৃথক সেলারি স্ট্রাকচার (এস এস) ভেঙ্গে ২০টা ইউনাইটেড সেলারি স্ট্রাকচার (ইউএসএস) করা হয়। ৭৪ সালে তা ১০টিতে নিয়ে আসা হয় এবং তাতে বেতন আরো কিছু বৃদ্ধি পায়। ৭৫ এর পর তা আবার ২০টিতে চলে আসে। এ অবস্থা চলে এরশাদ পর্যন্ত। এরশাদ ক্ষমতায় এসে বেতন নির্ধারণ করে ৬ হাজার টাকা। বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বেতন ১০ হাজার এবং এখন সেটি ২৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক কৃষি সচিব বর্তমানে ক্যাবিনেট সচিব আব্দুল আজিজ বলেন, সিভিল সার্ভিসের লোকদের পেশাদার হতে হবে। রাজনৈতিক টোপ ও চাপ থেকে মুক্ত থাকার ইচ্ছা থাকতে হবে। পেশাদারিত্ব দিয়েই রাজনীতিকদের ওভারকাম করতে হবে। প্রত্যেকেরই ক্যারিয়ার প্ল্যান থাকতে হবে, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তারা যেন যোগ্যতর স্থানে যেতে পারে সংস্থাপনে সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। দলীয় আনুগত্য দিয়ে, ভালো পোস্টিং দিয়ে পারচেজ করে যে কলঙ্ক তিলক একে দেয়া হয় তা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে। তবে দক্ষ ও সৎ থেকে ভালো পোস্টিং না পেলে হতাশা সৃষ্টি হয়। এতে ওই কর্মকর্তার কাজের আগ্রহও কমে যায়। গত সরকারের সময় দলীয় আনুগত্যের জন্য পুরস্কৃত করার আবহ সৃষ্টি করা হয়েছিল। অনেকে ৰমতায় থেকেই নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছিলেন। অবসরের কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কেউ নির্বাচন করতে পারবে না এ ধরনের বিধান হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের স্পয়েল সিস্টেমের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন এদেশের মানুষ এখনো যথেষ্ট শিৰিত হয়ে ওঠেনি। এ ধরনের পদ্ধতি এদেশের মানুষ সহজভাবে নেবে না। সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাতীয় গৃহায়ন সংস্থার মো. সফিউল আলম বলেন, ১৯৫৬ সালে জনপ্রশাসন সংস্কারের প্রথম প্রস্তাব পেশ হয়। সেই থেকে ১৯৯৭ সালে এটিএম শামসুল হকের নেতৃত্বে গঠিত গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন পর্যন্ত অধিকাংশের প্রস্তাবই বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জনস্বার্থেই প্রশাসনিক রিফর্মস করা হয়েছে। পাকিস্তানের জেলা ও সিটিগুলোতে এখন গভর্নর পদ্ধতি চালু আছে। এসব স্থানে নাজিম হচ্ছেন প্রশাসনিক প্রধান। তিনি ২১টা বিভাগ সমন্বয় করে থাকেন। সংস্কারের কারণে সেখানে মানুষ ঘরে বসে নিজ উদ্যোগে অনলাইনে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারেন। নিজেই অনলাইনে বিল অফ লেডিং ও এলসি ওপেন করতে পারেন। পাকিস্তানের যে ব্যুরোক্রেসি থেকে এদেশের ব্যুরোক্রেসির যাত্রা সেই পাকিস্তানে সংস্কার হলে আমাদের দেশে কেন হবে না।


Advertisements

Comments on: "জনপ্রশাসন ও আমলাতন্ত্র" (1)

  1. আমলাগণের পলিটিশিয়ান-পায়রামী কালচার

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: