স্থানীয় সরকারের পৌর প্রশাসনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য চেতণার উন্মেষ ঘটানোর প্রচেষ্টা

কালের দর্পণ


লরেন্স লিফগুল্জের স্মৃতিচারণঃ কর্ণেল তাহেরকে আমি যেভাবে চিনতাম

তাহেরের সঙ্গে আমার পরিচয় ১৯৭৪ সালে। আমি তখন বাংলাদেশেই বাস করছি। ওই বছরে প্রচণ্ড বন্যায় দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় শস্য। রংপুর এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বেশি। পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে জমির ফসল ছিল পানির নিচে। এর ফলে ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষক কাজের অভাবে খুব বিপাকে পড়েন। নিজেদের ক্ষুধা নিবারণেও তাঁরা চাল কিনতে পারেননি।

ওই শরতেই হাজার হাজার ক্ষুধার্ত চাষি খাদ্য, কাজ ও ত্রাণের আশায় শহরে ভিড় জমাতে শুরু করেন। আমি যখন অক্টোবরে রংপুরে পৌঁছাই, দুর্ভিক্ষ তখন শহর ও তার আশপাশের এলাকা গ্রাস করেছে। দৃশ্যটি দান্তের ইনফারনোর সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে হাজার হাজার নারী ও শিশু খাদ্যের জন্য ভিক্ষা করছে। তাদের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাজ কিংবা ত্রাণ ও বাড়িতে টাকা পাঠানোর আশায় বহু আগেই দূরবর্তী শহরে চলে গেছেন। অনেকেই তাঁদের কোনো খোঁজখবর পাচ্ছিলেন না।
এমনই একটি পরিবেশে আমি ঢাকায় আমার সহকর্মীদের কাছে জানতে চাইলাম, তাঁরা এমন কারও কথা জানেন কি না, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যাঁর উন্নত ধারণা রয়েছে। এমন কেউ কি আছেন, যিনি বুঝতে পারেন, কেন বছরের পর বছর ধরে বারবার বন্যা হচ্ছে।
একজন সম্পাদক সহকর্মী আমাকে বললেন, তিনি এমন একজন সেনা কর্মকর্তাকে জানেন, যিনি সদ্য সাপ্তাহিক বিচিত্রায় এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তাঁর লেখায় যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে, তা হলো তাঁর উদ্ভাবনীমূলক ধারণা, যাতে মনে হচ্ছে তিনি সমস্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখেন এবং কেন পৌনঃপুনিক বন্যা হচ্ছে তার সঠিক কারণও তাঁর জানা। এই কর্মকর্তার নাম আবু তাহের।
আমি তাহেরের সঙ্গে তাঁর অফিসে সাক্ষাৎ করি। তিনি সম্প্রতি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছেন এবং বর্তমানে সি-ট্রাক ইউনিট নামে এক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার কর্তাব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন। আমি তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলে চমৎকৃত হলাম। তিনি জানতেন, দেশের পৌনঃপুনিক বন্যা সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধান না করে ভবিষ্যতের উপর্যুপরি দুর্ভিক্ষ প্রতিহত করা যাবে না। মোগল আমল থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের যেসব কলাকৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, তাহের সে সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা করেন। এমনকি ঔপনিবেশিক যুগের বন্যা-পরিস্থিতির বিষয়েও তাঁর ছিল ব্যাপক অধ্যয়ন। স্পষ্টতই ইতিহাসের এসব পর্ব থেকে এমন অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার ছিল, যে সম্পর্কে আধুনিক বিশেষজ্ঞরা একেবারেই ওয়াকিবহাল ছিলেন না।
শুধু এই চিন্তাভাবনা দিয়ে তাহেরকে চেনার সুযোগ নেই। কিন্তু আমি একটি বিষয় পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলাম, আমি এমন একজন ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেয়েছি, যিনি ছিলেন একজন ‘বিজ্ঞ সৈনিক’। যিনি ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে আজকের সমস্যার বাস্তব সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন। আমি ঢাকায় অনেককেই জানতাম। একজন রিপোর্টার হিসেবে সেটাই ছিল আমার কাজ। কিন্তু এবারে আমি এমন একজন তাহেরকে জানলাম, যিনি অবিস্মরণীয়, বুদ্ধিদীপ্ত, বাস্তববাদী এবং বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও অনুন্নয়ন দূরীকরণের চিন্তায় সমৃদ্ধ। আমি এরপর তাঁর সঙ্গে বহু সন্ধ্যা কাটিয়েছি এবং কথা বলেছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
আমি তাঁর কাছ থেকে জেনেছি গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল, যা তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। আমি তাঁর কাছ থেকে আরও জানলাম, কুমিল্লা ব্রিগেডের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর তিনি কীভাবে সেনাবাহিনীর জন্য একটি ‘নতুন দৃষ্টান্তের’ বাস্তবায়ন শুরু করেছিলেন। তাহের মনে করেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি সংযোগস্থলে দাঁড়ানো। এই সেনাবাহিনী হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাঠামো ও সাংগঠনিক প্রকৃতিতে গঠিত হবে অথবা তার নিজস্ব উদ্ভাবনী শক্তি খাটিয়ে এমন একটি সেনাবাহিনী গড়ে তুলবে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় আগে কখনো দেখা যায়নি। যদি এই সেনাবাহিনী আদর্শগত ও কাঠামোগতভাবে পাকিস্তানি মডেল গ্রহণ করে, যেখানে প্রায় সব সেনাসদস্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন, সে ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও ভবিষ্যতে কোনো একপর্যায়ে একটি সামরিক কিংবা একটি সামরিক-বেসামরিক স্বৈরতন্ত্রের এজেন্সিতে পরিণত হবে।
তাহের মনে করতেন, যদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা হয়ে থাকে হতদরিদ্র ও নিরন্ন মানুষের জীবনের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য, সে ক্ষেত্রে এমন একটি সেনাবাহিনীর প্রবর্তন দরকার হবে, যারা দরিদ্র মানুষের স্বপ্ন পূরণে সচেষ্ট থাকবে। তাঁর ভাবনা ছিল, এটা সম্ভব হতে পারে, সেনাবাহিনী যদি গ্রামবাসী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের দৈনন্দিন আলাপ-আলোচনায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে। এটা হবে এমন একটি সেনাবাহিনী, যারা অস্ত্র বহনকারী শক্তির চেয়ে অধিকতর কিছু। সে কারণেই তাহের সেনাবাহিনীর এই পর্যায়ের নামকরণ করেছিলেন, ‘উৎপাদনশীল সেনাবাহিনী’।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী অন্যান্য প্রথাগত সেনাবাহিনীর মতোই দেশের মূল্যবান সম্পদ অপচয়ের কান্ডারি ছিল। বিপুল অর্থ ব্যয় হতো প্রতিরক্ষা খাতে। এর ফলে স্কুল, হাসপাতাল ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে সম্পদের ব্যবহার সংকুচিত হতো। দশকের পর দশক ধরে বিরাজমান সামরিক একনায়কতন্ত্র ও আধিপত্য বজায় রাখার কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কার্যত দেশের অর্থনীতির জন্য গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাহের মনে করতেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ছিল এক দানবীয় পরগাছা, যা সবকিছু শুষে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে গরিব ও পশ্চাৎপদ রেখেছিল।
তিনি নিজেকেই জিজ্ঞেস করতেন, একটি স্বাধীন বাংলাদেশে এ রকম একটি দানব গড়ে তোলার জন্যই কি লাখ লাখ মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিল? তার জবাব ছিল, না এবং একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি তা ঘটতে দিতে পারেন না। কীভাবে একটি নতুন দৃষ্টান্তে উত্তরণ ঘটানো যায়, তার পথ দেখাতে তিনি সচেষ্ট হন।
কুমিল্লা ব্রিগেডে তাহের তাঁর সেনাসদস্যদের ‘উৎপাদনশীল সৈন্য’ হিসেবে সংগঠিত করেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিগেড তার খাদ্যের জোগান নিজেই নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয় এবং এ ক্ষেত্রে অনেকটা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। এ প্রয়াসের লক্ষ্য ছিল সমাজের ওপর তারা যাতে কোনো অর্থনৈতিক বোঝার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্রিগেডের সদস্যরা আশপাশের গ্রামগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। তাঁরা স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদ, ফসল কাটা এবং সেচব্যবস্থার কাজে সহায়তা করতেন। তাঁরা সেনাবাহিনীর অবশিষ্ট অংশের কাছে ‘লাঙল সেনা’ হিসেবে পরিচিতি পান। অনেকে ভাবতেন, এটা মজার বিষয়। কিন্তু অন্যরা দেখেছেন, এর পেছনে নিশ্চয় গুরুতর উদ্দেশ্য রয়েছে।
তাহের দেখেছিলেন, এভাবে সেনা ও সাধারণ লোকদের দৈনন্দিন আলোচনা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরের সংস্কৃতি পরিবর্তন ঘটাতে পারে। সেনাদের ‘কর্তৃত্বের মানসিকতাই’ প্রকারান্তরে একটি সামরিক স্বৈরাচারের জন্মদানের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি তৈরি করে দেয়। তাহেরের এই নীতিই আসলে পরবর্তী সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য গণবাহিনী গঠনের দর্শন হয়ে ওঠে। তাহের আমার কাছে ব্যাখ্যা করেছিলেন, তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছিলেন এই কারণে যে তাঁর মতো যাঁরা সমমনা কর্মকর্তা, যাঁরা দুর্নীতির ভ্রূণের বিরুদ্ধে এবং একটি নতুন কাঠামোর প্রতি একটি আন্দোলন সৃষ্টির জন্য উদ্গ্রীব, তাঁরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। প্রথাগত ধ্যান-ধারণাই তাঁদের পুনরায় আচ্ছন্ন করতে বসেছে। পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত কর্মকর্তা, বাংলাদেশের যুদ্ধের আদর্শগত প্রভাব যাঁদের স্পর্শ করেনি, ক্রমবর্ধমানভাবে তাঁরাই বৃহত্তর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।
তাহেরের সঙ্গে বৈঠকে মুজিব বিষয়টিতে সায় দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি আসলে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি। কর্তৃত্বপরায়ণতা ও সামরিক স্বৈরতন্ত্রের বীজ বপন হচ্ছিল। কিন্তু মুজিব তা দেখতে পাননি। পাকিস্তানি ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটবে। তাহের সেই দিনটি আসার আগেই একটি বিকল্প তৈরির প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীর বাইরে এলেন। সর্বশেষ বৈঠকে তাহের তাঁকে যা বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা না বুঝতে পেরে মুজিব চড়া মূল্য দিলেন।
১৯৭৪ সালের শেষের দিকে আমি বাংলাদেশ ত্যাগ করি। আমাকে ফার স্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ পত্রিকার দিল্লিভিত্তিক সংবাদদাতা নিয়োগ করা হয়। সুতরাং আমাকে গোটা দক্ষিণ এশিয়া কভারে মনোযোগী হতে হয়। আমি যখন তাহেরের কাছে বিদায় জানাতে গেলাম, তখন আসলে আমার কোনো ধারণাই ছিল না যে তিনি জাসদের একজন গোপন সদস্য। কিংবা তিনি সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে একটি মোর্চা গঠনে সক্রিয়, যারা সেই মুহূর্তের জন্য নিজেদের তৈরি করছিল, যখন বাংলাদেশি সমাজের সবচেয়ে রক্ষণশীল অংশ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন এবং যা একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অধিকারের কবর দিতে হুমকি সৃষ্টি করবে।
তাহেরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা থেকে আমি যা বুঝতে পেরেছি তা হলো, তিনি বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে নিজেকে একজন বিপ্লবী সমাজতন্ত্রীতে পরিণত করেছিলেন। তিনি মাঝেমধ্যে আমাকে এ বিষয়ে বিদেশ থেকে কোনো একটি নির্দিষ্ট বই বা সাময়িকী এনে দিতে বলতেন। স্পষ্টতই সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বিতর্ক এবং উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল। আমাদের আলোচনায় তাহেরের অন্তর্দৃষ্টি ও যুক্তিবাদী মননের প্রতিফলন ঘটত।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিদ্রোহের পর তাহেরের সঙ্গে আমার আবার দেখা হয়। আমি বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পারি, তিনিই ছিলেন সেই বিদ্রোহের সামরিক অধিনায়ক। এটা আমাকে বিস্মিত করলেও একই সঙ্গে আমার কাছে তা ছিল যৌক্তিক। তাহের আসলে তাঁর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিলেন।
তাহেরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল সম্পূর্ণরূপে পেশাগত। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ। তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এ অবস্থায় আমরা পুনরায় আলোচনা করি। ৭ নভেম্বরে যদিও তাহের জিয়ার জীবন রক্ষা করেন (জিয়া প্রকাশ্যেই এ কথা উল্লেখ করেছিলেন)। জিয়ার অবস্থান সম্পর্কে তাহের এবং জাসদের ইতিবাচক মূল্যায়ন ছিল ভুল। যদিও ঘরোয়াভাবে জিয়া দাবি করেছিলেন, একমাত্র সমাজতান্ত্রিক নীতি বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য ঘোচাতে পারে।
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হই। তাহেরের বড় ভাই আবু ইউসুফ খান এ ব্যাপারে সাহায্য করেন। আমরা প্রায় ৯০ মিনিট আলোচনা করেছিলাম। সেখানে আমি ৭ নভেম্বর সম্পর্কে তাহেরের বক্তব্য জানতে পারি। আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিতে চাইলে তিনি বললেন, আবার তাঁকে স্বাগত জানাতে পারলে তিনি খুশি হবেন। তাহের ছিলেন আশাবাদী। তাঁর ভাবনা ছিল, তাঁদের দিন আসছে।
আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিলাম, যদি তাঁরা ক্ষমতায় আসেন, তাহলে তাঁকে ও তাঁর সহকর্মীদের ভিড় থেকে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে অবলোকন করবেন। আমি বললাম, তাঁরা বিষয়টিকে কীভাবে নেন, তার ওপর নির্ভর করবে আমাকে তখন ‘স্বাগত’ জানানো হবে কি না। আমি তাঁকে বললাম, যদি গ্রেপ্তার কিংবা তার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটে, তা রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে আমিই হব প্রথম। তেমন পরিস্থিতিতে আমাকে স্বাগত নাও জানানো হতে পারে। তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিই, আমি আসলে সব ক্ষমতা সম্পর্কেই সন্দিগ্ধ। তিনি মাথা ঝাঁকালেন, হাসলেন এবং বললেন, তিনি আমার ইঙ্গিত বুঝতে পেরেছেন। আমি বললাম, আপনি যদি আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন, তাহলে সে সম্পর্কে রিপোর্ট করার ক্ষেত্রেও আমি হাজির থাকব। নতুন সেনাবাহিনী গঠন করুন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ সমস্যা সমাধান করুন, দরিদ্রকে সাহায্য করুন, তাদের দারিদ্র্যের অবসান ঘটান—আমি সবকিছুরই বৃত্তান্ত লিখব।
আমরা বিদায় নিলাম। সেটাই ছিল তাহেরের সঙ্গে আমার শেষ দেখা। আমি এরপর তাঁকে আর দেখিনি। এরপর আমি অবশ্য তাঁর নিকট দূরত্বে উপস্থিত হয়েছিলাম। সেই দিনটিতে, যেদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর গোপন বিচার শুরু হয়েছিল। আমি দাঁড়িয়েছিলাম কারাগারের সামনে।

[২০০৬ সালের ২১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত আলোচনায় মূল বক্তৃতার শুরুতে প্রদত্ত স্মৃতিচারণা, ইংরেজি থেকে অনূদিত]

……………………………………….০০০…………………………………………

পৌর প্রশাসনঃ

নগরবাসীর প্রত্যাশা বনাম সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা

বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর যুগোপযোগী করে স্হানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করে। বিগত ৬ অক্টোবর ২০০৯ তারিখে পাশ হওয়া এ পৌরসভা আইনের অধীনে অন্ততঃ ২৩টি  নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কথা। সবার প্রত্যাশা ছিল, এসব বিধিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর করা হলে দেশের পৌর প্রশাসনে গতিশীলতা ফিরে আসবে এবং নগরবাসীর আধুনিক সেবা ও উন্নণের মান বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু একাজে গত সোয়া এক বছরে সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগের তেমন কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে জনগণের অভিব্যক্তির প্রতিফলন স্বরূপ জাতীয় সংসদে প্রণীত এ নতুন আইনের সুফল নগরবাসীর কাছে আজো পৌঁছতে পারেনি।

বিগত ৩১ মে ২০১০ তারিখে হোটেল রেডিসনে মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) আয়োজিত এক সেমিনারে আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্হিত মহামান্য রাষ্ট্রপতির সামনে পৌর অইনের অধীনে প্রণীতব্য বিধি সমূহের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। উক্ত অনুষ্ঠানে স্হানীয় সরকার, পল্লী-উন্নয়ণ ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্হায়ী কমিটির সভাপতি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশের স্হানীয় সরকার ব্যবস্হার অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আমরা বিগত অক্টোবর মাসে সার্বভৌম সংসদে স্হানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ প্রণয়ন করে দিই। কিন্তু এতদিন পরও স্হানীয় সরকার বিভাগ বিধিমালাগুলো তৈরী করতে পারেনি। জনগণ আধুনিক ও যুগোপযোগী করে প্রণীত এ আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারপর তিনি ক্ষোভের সাথেই বলেন যে, তারা (স্হানীয় সরকার বিভাগ) যদি না পারেন তা হলে আমাকে দিন, আমি সংসদীয় কমিটির সদস্যদের নিয়ে বিনা পয়সায় এক মাসের মধ্যে বিধিগুলো তৈরী করে দিব। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সংস্হাপন বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমামও উপস্হিত ছিলেন। পরবর্তীতে হোটেল শেরাটনে ম্যাবের অপর এক সেমিনারেও প্রখ্যাত স্হানীয় সরকার বিশেষজ্ঞগণ ও আমন্ত্রিত অতিথিগণের পক্ষ হতে উক্ত বিধি প্রণয়নে বিলম্বের কারন সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকার দলের মহাসচিব খোদ স্হানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এ প্রশ্নের জবাবে তার বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেন, বিধি প্রণয়নের কাজ আমলাতান্ত্রিক ফাঁদে আটকে আছে। খোদ মন্ত্রীই যদি এরূপ উক্তি করেন তাহলে জনগণের এত বিশাল ম্যান্ডেটে ক্ষমতাসীন সরকারী দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া স্হানীয় সরকারকে শক্তিশালী করণের ওয়াদার কী হবে? এ কোন আমলাতন্ত্র যাদের কারণে সার্বভৌম জনগণের ম্যান্ডেট ফাঁদে আটকা পড়ে অধঃগতি ও অকল্যান চেপে বসে? জনগণের পয়সায় লালিত হয়ে তারা কী করে জনস্বার্থ বাঁধাগ্রস্ত করতে পারেন? এসব প্রশ্নের দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ দেশের পৌরসভা সমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে এসে স্হানীয় সরকার বিভাগ তরিঘড়ি বিদায়ী মেয়র কাউন্সিলরগণের সম্মানী ভাতা পূণনির্ধারনের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠে। পৌরসভার কার্যবিধি, কর্মী ব্যবস্হাপনা, পৌর পুলিশ, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সেবা, রাজস্ব ও উন্নয়ণ ব্যবস্হাপনা ইত্যাদি সংক্রান্ত অত্যাবশ্যকীয় বিধি সমূহ প্রণয়নে বিরত থেকে উক্ত সম্মানী ভাতা বৃদ্ধির জন্য বিধিমালা প্রস্তুত অগ্রাধিকার পায়। এ দেশে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখা এবং ব্যক্তি স্বার্থ অগ্রাধিকার পাওয়ার ঘটণা বিড়ল নয়। তবে তা অভিশপ্ত হয়ে পড়ে তখনি যখন স্বাভাবিক রীতি-নীতি ও সর্ব লজ্জার সীমা অতিক্রম করে সীমালংঘণের পর্যায়ে পড়ে যায়। শ্রুতি রয়েছে, সরকার দলীয় কয়েকজন প্রভাবশালী পৌর মেয়র মন্ত্রণালয়ের উৎসাহী কর্মকর্তাদের সহায়তায় রাজনৈতিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে সরকারী উন্নয়ণ সহায়তা মঞ্জুরী বাজেটের গত অর্থ বছরের পৌরসভা অংশের বরাদ্দ হতে মেয়র ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের নামে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা থোক বরাদ্দ কেটে নেন। তা দিয়ে ঐসব সৌভাগ্যবান মেয়র ও স্হানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন বিদেশ ভ্রমন নিয়ে। কর্মকর্তাদের এ বিদেশ ভ্রমন আদৌ মন্ত্রণালয়ের কোন কাজে আসবে কি? মোটেও নয়। নগর উন্নয়ণের অর্থ কেটে নিয়ে তা দিয়ে বিদেশ ভ্রমন নৈতিকতা বহির্ভূত। দেখা গেছে, দপ্তরের কাজ ফেলে রেখে অনেক কর্মকর্তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে বিদেশ ভ্রমন এবং একাজের কাগজপত্র তৈরী, ভিসা ও টিকিট সংগ্রহে। দপ্তরের কাজকর্মে চলে অসহনীয় স্হবিরতা। এভাবে কিছুদিন পরই হয়তো দেখা যাবে পদোন্নতি নিয়ে অথবা বদলী হয়ে তারা চলে যাবেন অন্য দপ্তরে। পত্রিকান্তরে এমন খবরও এসেছে (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ জানুয়ারী), স্হানীয় সরকার বিভাগের একজন প্রভাবশালী যুগ্ম-সচিব (‘ম’ অদ্যাক্ষরে নাম) এগার মাসের চাকুরীকালে দশ বার বিদেশ ভ্রমন করে আসেন। এক্ষেত্রে তারা লাগামহীন, এমনকি সরকারের নিয়ম-রীতির তোয়াক্কা করতেও রাজী নন। কাজেই মন্ত্রণালয়ের আসল কাজ নীতি নির্ধারণ ও বিধি বিধান প্রণয়নের কাজে তারা মনযোগী হতে পারছেন না। আর এসমস্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর নিরব ভূমিকায় মোটেও সন্তুষ্ট নন দেশের সচেতন নগরবাসী। এ সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা অনেক।

এবার দেখা যাক, রাজনৈতিক আশীর্বাদপুষ্ট স্হানীয় সরকার বিভাগের ঐসব কর্মকর্তাগণ জনস্বার্থের পরিবর্তে মেয়াদোত্তীর্ণ বিদায়ী পৌর মেয়র কাউন্সিলরদের কল্যাণের জন্য কতটুকু প্রজ্ঞার পরিচয় রাখতে পারলেন। গত ৭ অক্টোবর ২০১০ তারিখে সরকারের স্হানীয় সরকার বিভাগ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরগণের বিশেষ সুবিধা, কর্তব্য ও দায়িত্বভার (মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী) বিধিমালা, ২০১০ প্রণয়ন করে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১০ অক্টোবর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়। ২০ অক্টোবর স্হানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখা হতে ৯০০ নং স্মারকে এ বিধিমালার কপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণের জন্য সারা দেশের পৌরসভাগুলোতে প্রেরণ করা হয়। উক্ত বিধিমালার ৮ নং বিধিটি যুক্ত হয়েছে ‘বিশেষ বিধান’ শিরোনামে। তা হলো-“মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন পরবর্তী দায়িত্বভার গ্রহণের তারিখ হইতে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে অর্থ থাকা সাপেক্ষে, এই বধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ পর্যন্ত বিধি ৬ এ নির্ধারিত হারে সম্মানী ভাতা বকেয়া হিসাবে উত্তোলণ করিতে পারিবেন।“ উল্লেখিত ৬ নং বিধিতে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি করে পূণনির্ধারণ করা হয়। নতুন এ হারে বিশেষ/ক শ্রেণী, খ শ্রেণী ও গ শ্রেণীর পৌরসভার মেয়রগণ যথাক্রমে মাসিক ২০০০০, ১৫০০০ ও ১২০০০ টাকা করে সম্মানী ভাতা পান। কাউন্সিলরগণ পান যথাক্রমে ৫০০০, ৪০০০ ও ৩০০০ টাকা করে। নবনির্ধারিত সম্মানী প্রাপ্তির এ হারে কাউন্সিলরগণ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও উক্ত বিশেষ বিধানের সুবাদে পরিষদের মেয়াদ শেষে বিশাল অঙ্কের বকেয়া প্রাপ্তির যোগ তাদের সবাইকে সন্তুষ্ট রেখেছে। এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জানুয়ারী ২০১১ মাসে যেসব পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল অথবা সঙ্গত কারণে যেগুলোতে নির্বাচন হচ্ছেনা উহাদের অধিকাংশের মেয়াদ প্রায় আট বছর গড়িয়েছে। কোন কোনটি আরো অধিক মেয়াদ পাড় করেছে। পৌরসভা (চেয়ারম্যান ও কমিশনারগণের সম্মানী পরিশোধ) বিধিমালা, ১৯৮৫ অনুযায়ী বিশেষ/ক শ্রেণী, খ শ্রেণী ও গ শ্রেণীর পৌরসভার মেয়রগণ যথাক্রমে মাসিক ৩০০০, ২৪০০ ও ১৮০০ টাকা করে সম্মানী ভাতা পেতেন। কাউন্সিলরগণ পেতেন যথাক্রমে ১২০০, ৯৭৫ ও ৭৫০ টাকা করে। এ হিসেবে অক্টোবর ২০০৯ মাসে জারীকৃত নতুন বিধিমালার বিশেষ বিধান অনুযায়ী দেশের পৌরসভা সমূহের বিদায়ী পরিষদ সদস্যগণ যে পরিমান বকেয়া সম্মানীর অর্থ উত্তোলন করেছেন বা বকেয়া বিল প্রাপ্য হয়েছেন উহার পরিমান প্রায় ৬০ কোটি টাকা। নগরবাসী বঞ্চিত হন সমপরিমান অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্তব্য সেবা ও উন্নয়ণ থেকে।

নগরবাসীর কপাল কেটে উক্ত বিপুল পরিমান অর্থ ঠিক পৌরসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কাদের হাতে তুলে দেয়া হল তা একটু ফিরে দেখা প্রয়োজন। এ অর্থের প্রভাব এবারের পৌরসভা নির্বাচনে কীভাবে পড়লো তাও ভেবে দেখা দরকার। বিগত ২০০৪ সালের নির্বাচনে উঠে আসা অধিকাংশ পৌর মেয়র ও কাউন্সিলরগণ ছিলেন বিএনপি মনোনীত। তাই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এবারের ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনের ঠিক পূর্বক্ষণে ঐসব মেয়র কাউন্সিলরদের হাতে তুলে দেয়া বিপুল পরিমাণ বকেয়া সম্মানীর অর্থ তাদের দলের অনুকূলে নির্বাচনের মাঠ ভালভাবেই উর্বর করতে সক্ষম হয়েছে। সচেতন মহল মনে করেন, এবারের পৌর নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের বিশাল জয়ের পেছনে মাঠে ছড়ানো উক্ত অর্থের প্রভাব একটা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। প্রশ্ন হলো স্হানীয় সরকার বিভাগ কোন বিবেচনায় এবং কাদের স্বার্থে ঠিক এ সময়ে এসে মহেন্দ্রযোগটি সৃষ্টি করে দিল? অথচ দেশের প্রায় পঁয়তাল্লিশ ভাগ পৌরসভা নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা দিতে পারে না। তড়িঘড়ি বকেয়া সম্মানীর অর্থ তুলে নেয়াকে কেন্দ্র করে অনেক পৌরসভায় পরিষদ সদস্যদের হাতে পৌর কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত হতে হয়েছে।

জনপ্রতিনিধিগণের এরূপ দীর্ঘ সময়ের ভূতাপেক্ষ কার্যকরিতা সহ সম্মানী আহরণের সুযোগ প্রাপ্তির নজীর ইতোপূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি। যাহোক এ অর্থ পরিশোধ করার ফলে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে যে নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়েছে তা অধিকাংশ পৌরসভা সামাল দিতে ব্যর্থ হবে। নব নির্বাচিত পৌর পরিষদের কাছে এর ধকল নানা জটিলতা নিয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে সরকারের উচিত হবে বিশেষ ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরী প্রদানের মাধ্যমে পৌরসভার রাজস্ব তহবিলে সম পরিমান অর্থ সহায়তা প্রদান করা। আর যত দ্রুত সম্ভব পৌরসভা আইনের অধীনে প্রণীতব্য সবগুলো বিধি প্রণয়ন ও কার্যকর করা। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীগণ সজাগ হবেন এবং প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করবেন-এটাই আপামর নগরবাসীর প্রত্যাশা।

-২২ জানুয়ারী ২০১১ খ্রিঃ।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: