স্থানীয় সরকারের পৌর প্রশাসনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য চেতণার উন্মেষ ঘটানোর প্রচেষ্টা

আমাদের জাতিসত্ত্বা ও আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ


রাজাবিহীন রাজ্যে আমরা প্রজা বাস করি?

স্বাধীন দেশে এ দূর্ভাগা জাতিসত্ত্বার প্রকৃত মুক্তি আর কতদূর??

হ্যাঁ, আমরা যে দেশে বাস করছি উহার সাংবিধানিক নাম গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এদেশে রাজা নেই; কিন্তু প্রজা আছে। হ্যাঁ, এটা সে দেশ যার জনগণ হলেন প্রজা! দেশটি প্রজাতন্ত্রী!

প্রজাদের শাসন ব্যবস্হার নাম হতে পারে প্রজাতন্ত্র। আর যে দেশে প্রজাতন্ত্র থাকে সে দেশ হবে প্রজাতন্ত্রী। প্রজাদের সে দেশের শাসক হবেন রাজা। কিন্তু যে দেশে রাজা নেই সে দেশের জনগণকে প্রজা বলা যাবে কিভাবে? দেশ বলতে একটি স্বাধীন ভূখন্ড, একটি জণগোষ্ঠী, একটি সংবিধান ও সার্বভৌমত্ব এ চারটি বিষয়ের উপস্হিতিকে বুঝায়। আমাদের সবই আছে। সবই উৎকৃষ্ট ও সম্মানজনক ভাবেই আছে , কেবল জণগোষ্ঠী কলংকিত, এখনো প্রজা হয়ে আছে। যে দেশের সংবিধান বলছে, দেশটির সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেখানে মালিক সাধারণকে ‘প্রজা’ শব্দের মধ্যে জড়িয়ে প্রজাতন্ত্র আসে কীভাবে। গণ সাধারণতন্ত্র বা জন সাধারণতন্ত্র অথবা গণ জনতন্ত্র হলে তাতে ভুল কী হতো। এটা মানা যায় না। এখানে জাতি স্বত্ত্বার মর্যাদা জড়িত। সবাইকে ভুল বুঝিয়ে বা ভ্রম বলে তা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এখন দেখতে হবে মহান সংবিধানের মূল ইংরেজীপাঠ বাংলাপাঠে রূপান্তরের কাজটি কেনো ওভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।

অনেকে বলবেন, রাজা যখন কোন রাজ্য শাসন করেন তখন উহাকে রাজতন্ত্র বলা হয়। তাহলে রাণী যে দেশ শাসন করবেন তা হবে রাণীতন্ত্র? আসলে একটি স্বাধীন দেশে জনগণ যে পদ্ধতিতে দেশ চালাতে চান-সেটাই, অর্থাৎ জনগণকে ঘিরে বা জনগণের অভিপ্রায় অভিব্যক্তির প্রতিফলনই মূল কথা। অপরদিকে, আমাদের এ বাংলার মাটিতে তো কোন শতাব্দীতেই রাজা জন্ম নেয়নি। অবশ্য প্রজা ছিলো। ছিলো অন্য দেশের রাজণ্য বর্গের দখলদারিত্ব। আর শেষব্দি ছিল ইংরেজ, পাকিস্তানিদের ঔপণিবেশিক শাসন। ইংরেজরা জমিদারী প্রথায় এদেশে জমিদারিত্বের নামে কিছু আজ্ঞাবহ দালাল শ্রেণীর জন্ম দিয়ে গেছে। পদলেহী এ শ্রেণী উচ্ছ্বিষ্ট ভোগেই সন্তুষ্ট ছিল। শোষকের হাতিয়ার হিসেবে এদেশের নিরীহ প্রজাদের রক্ত শুষে কালের পরিক্রমায় সে উচ্ছ্বিষ্ট পুঞ্জিভূত করেই তারা ফুলে ফেঁপে সম্পদশালী হয়ে উঠে। কেউ বা পরিতুষ্টির মাপকাঠিতে প্রভুদের কাছ থেকে পেয়ে যায় নানা খেতাব। মিয়া, ভূঁইয়া, চৌধুরী, তরফদার, খাঁন, হাওলাদার আরো কতো কি। এসবের মাপকাঠিতে অগ্রগামীরা প্রভুদের বেশী বেশী সাহচর্য্য পেতো। এতে মন-মগজ, আদব-কায়দা, বেশ-ভূষন এমনকি জীবনাচার-জীবনবোধেও তারা প্রভুদের অনুগামী হয়ে পড়ে। সৃষ্টি হয় এদেশীয় এলিট শ্রেণীর। সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও দুঃখ কষ্ট তাদের স্পর্শ করে না। স্বাধীনতার পর হতে এযাবৎ সোনার দেশটি ঐ এলিট গোষ্ঠীর হাতে বার বার বিপর্যস্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মুক্তি এখনো আসেনি। আর সংবিধানের বাংলা পাঠতো এলিটদের হাতেই হয়েছে। তারা জনগণকেতো প্রজাই মনে করবে। মুক্তিযুদ্ধ করে যারা দেশটি স্বাধীন করলো, তারা ক্ষুধার জ্বালায় ভিক্ষে কুড়াচ্ছে। আর ইংরেজ পাকিস্তানি চেতণাধারী মীরজাফরের বংশবদরা এদেশেরই মানুষের রক্ত চূষে এখনো মোটাতাজা হচ্ছে। অনেকে তাই বলেন, আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। ঐ রাজাকার, দালাল পরভোজি এলিটদের দেশের মাটি থেকে উৎখাত করতে না পারলে চিরদিন প্রজা হয়েই থাকতে হবে।

আমাদের সাধারণ জ্ঞানে রাজা-প্রজার সম্পর্ক, ঔপনিবেশিক ও সামন্ত-যুগীয় প্রজা পীড়ন, প্রজা বিদ্রোহ, প্রজার খাজনা, রাজ্যভোজে প্রজা আমন্ত্রণ, ১৯৩৪ সালে ঢাকায় প্রজা সম্মেলন, নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি, বঙ্গীয় প্রজা সমিতি, উজির নাজির প্রজা আরো কতো প্রজাস্মৃতি বিদ্যমান। কিন্তু এতো কষ্ট, এতো রক্তের বিণিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশে নিজেকে প্রজাজ্ঞান করতে ভীষণ ঘৃণাবোধ হয়। পঞ্চাশের দশকে সামন্ত প্রথার বিলোপ করে প্রজাস্বত্ব আইন করা হলেও নব্য জমিদারীত্বের সূচণা হয় আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে। ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, তহশিলদার, দফাদার, হুকুম, ওয়ারেন্ট এসব শব্দের ঝংকার শোষিতের পিছু ছাড়েনি। বদলে যায়নি স্বাধীন নাগরিকদের প্রজা ভাবার মানসিকতা। বৃটিশদের প্রেতাত্মা প্রবিষ্ট হয়েছিল পাকিস্তানি শোষকদের এলিট ভূষণে। স্বাধীনতার পর জঘণ্য নরপিচাশ পাকিস্তানি এলিটদের হাত পেড়িয়ে তা চলে এসেছে আমাদের এ দূর্ভাগা জাতি স্বত্বারই কতকের মাঝে। হ্যাঁ, এরা সে বৃটিশদের মতোই কেতা-দূরস্ত, সেই স্যূট- টাই, চলন-বলন, দামি দামি বাহণ, শীত-তাপ নিয়ন্ত্রিত সারাক্ষণ, আভিজাত্যের টগবগে মূর্তি, চারিদিকে পাইক-পিয়াদা, আয়োজন-অনুষ্ঠানে বাকবাকুম, প্রভূকূলের আদর-আপ্যায়নে মহারঙ্গ সাধন। এই সে এলিটরা, যারা মনেও রাখেনা যে দেশ মাতৃকার নিরীহ সন্তানদের শতকরা ৮০ জনেরই পেটে দুবেলা ঠিকমতো আহারও জুটেনা। নাহ, আমিই ভুলে গেছি যে, এরা শক্তের ভক্ত, নরমের জম। সবাইকে নরম পেয়ে যা ইচ্ছে তাই করতে পারছে। প্রজা বানিয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভিক্ষের ঝুলি হাতে ঘুরতে দিলেই বা কি আসে যায়?

যাহোক, মূল আলোচনায় আসা যাক। এবার দেখা যাক, পুস্তক ও বিশ্বজ্ঞান এ বিষয়ে কি বলে। মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, মূললিপি ইংরেজী “The Peoples Republic of Bangladesh” হতে “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” শব্দচয়ণ সঠিক বা আমাদের জনসাধারণের অভিব্যক্তির যথার্থ  ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিফলন কি-না।

ডিকশনারি ডট কম হতে সংগৃহীত সামগ্রিককভাবে আহরিত সংজ্ঞা সমূহঃ

Dictionary:

Republic [Noun]-A country without a king or queen, usually governed by elected representatives of the people and a president.

  1. A political order whose head of state is not a monarch and in modern times is usually a president. A nation that has such a political order.
  2. A political order in which the supreme power lies in a body of citizens who are entitled to vote for officers and representatives responsible to them. A nation that has such a political order.
  3. A specific republican government of a nation: As the Fourth Republic of France.
  4. An autonomous or partially autonomous political and territorial unit belonging to a sovereign federation.
  5. A group of people working as equals in the same sphere or field: Asthe republic of letters.

Cultural Dictionary:

Republic: A form of government in which power is explicitly vested in the people, who in turn exercise their power through elected representatives. Today, the terms republic and democracy are virtually interchangeable, but historically the two differed. Democracy implied direct rule by the people, all of whom were equal, whereas republic implied a system of government in which the will of the people was mediated by representatives, who might be wiser and better educated than the average person. In the early American republic, for example, the requirement that voters own property and the establishment of institutions such as the Electoral College were intended to cushion the government from the direct expression of the popular will.

Word Origin & History:

Republic: 1604, “state in which supreme power rests in the people,” from Fr. république, from L. respublica (abl. republica), lit. res publica “public interest, the state,” from res “affair, matter, thing” + publica, fem. of publicus “public”. Republican (adj.) “belonging to a republic” is recorded from 1712; in noun sense of “one who favors a republic” it is recorded from 1697; and in sense of a member of a specific U.S. political party (the Anti-Federalists) from 1782, though this was not the ancestor of the modern Republican Party, which dates from 1854. Republicrat in U.S. political jargon usually meaning “moderate,” is attested from 1940.

Legal Dictionary:

Re-pub-lic: Function: Noun

­1: A government having a chief of state who is not a monarch and who in modern times is usually a president; also: a political unit (as a nation) having such a form of government.

2: A government in which supreme power resides in a body of citizens entitled to vote and is exercised by elected officers and representatives responsible to them and governing according to law; also : a political unit (as a nation) having such a form of government.

The peoples

[Noun: Plural number of people] All the ordinary peoples in a country.

  1. Humans considered as a group or in indefinite numbers: People were dancing in the street. I met all sorts of people.
  2. A body of persons living in the same country under one national government; a nationality.
  3. A body of persons sharing a common religion, culture, language, or inherited condition of life.
  4. Persons with regard to their residence, class, profession, or group: city people.
  5. The mass of ordinary persons; the populace. Used with the: “those who fear and distrust the people, and wish to draw all powers from them into the hands of the higher classes” (Thomas Jefferson)
  6. The citizens of a political unit, such as a nation or state; the electorate. Used with the.
  7. Persons subordinate to or loyal to a ruler, superior, or employer: The queen showed great compassion for her people.
  8. Family, relatives, or ancestors.
  9. Informal Animals or other beings distinct from humans: Rabbits and squirrels are the furry little people of the woods.

আসলে আমাদের দেশের সংবিধান মোতাবেক জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের সকল স্বিদ্ধান্ত গ্রহন ও প্রয়োগ করবেন যা রিপ্রজেন্টেটিভ যা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রিপাবলিক (আমি এখানে রিপাবলিকের অনুদিত বাংলা প্রজাতন্ত্র লিখতে লজ্জা ও অসম্মান বোধ করছি) হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানবসত্ত্বার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হবে।

সুতরাং এ জাতিসত্ত্বার মর্যাদাবোধকে স্বাধীন করে মানবাধিকার ও মূল্যবোধকে সমুন্নত করার জন্য আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নিকট আমাদের অভিব্যক্তিগুলো তুলে ধরলাম। তুলে ধরলাম সত্যজ্ঞান, মুক্তির আকাংখা ও ক্ষেত্রগুলোর মাঝে সবচে প্রথম কাজটির গুরূত্ব সম্পর্কে হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণের সামান্য একটি চিত্র। এটা সামান্য বলা হলেও আমাদের সংবিধানের প্রথম ভাগের প্রথম অনুচ্ছেদ ও প্রথম শব্দ এটি। ভেতরে কী অবস্হা বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয় কারো জন্যেই। উপরে বর্ণিত ১১ অনুচ্ছেদের দিকে একটু তাকালেই বুঝা যাবে, জনপ্রশাসন না এলিটপ্রশাসন এ সংবিধানের উদ্দেশ্য পূরণ করছে। প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে কারা রাষ্ট্রের বহুমূখী ক্ষমতাগুলো সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে, সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে স্বীয় গোষ্ঠীস্বার্থের অনুকূলে বঙ্গানুবাদ দ্বারা চর্চ্চা করে যাচ্ছে।

পরিশেষে, আমরা এখন চাইবো, এক এক করে এগুলো পরীক্ষা ণিরীক্ষা ও যোগ্যদের দ্বারা যাঁচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপযুক্ত সংশোধনের কাজটি হাতে নেয়া হোক। আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ প্রকৃতপক্ষে এখানেই নিহিত। জাতির জনকের নেতৃত্বে এদেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা তাঁর নেতৃত্বে ভূখন্ডের স্বাধীনতা পেয়েছিলাম; কিন্তু মানবতার কঠিন কাজটি করে যেতে সময় দেয়া হয়নি তাঁকে। এর পেছনের এলিট সেন্সটিকে ভালভাবে বুঝতে হবে সবাইকে। মানব সৃষ্টির গোড়াতেই স্রষ্টা আমাদের এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। শ্রেষ্ঠ আজাযিলের এলিট সেন্সই তাকে ইবলিশে পরিনত করেছে এবং মানবতার পরম শত্রু হিসেবে সে মানুষকে কিয়ামত অবধি কুমন্ত্রণা দিয়ে বিপথগামী করবে এবং মানবতার বিপর্যয় ঘটাতে থাকবে। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে সত্তুরের নির্বাচনেও বঙ্গবন্ধু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সিট নিয়ে যখন জয়ী হলেন এবং তিনি উভয় পাকিস্তানের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাবেন, তখনও কুখ্যাত ভুট্টুর সে এলিট সেন্সই তা মেনে নিতে পারেনি। তার পাশে সমর্থণে ছিল আভিজাত্যবোধে পীড়িত কিছু সিভিল ও সেনা এলিটরাই। এখন এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে জাতির জনকের কন্যা পারবেন কি তাঁর পিতার অসমাপ্ত সে কাজগুলো শেষ করে দেশের হতভাগা মানুষগুলোর মুক্তির শেষ রেখাটি টেনে যেতে।

-মোঃ সামসুল আলম।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: